1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

সিলিন্ডারে হাইড্রোজেন উৎপাদন নিষিদ্ধের উদ্যোগ

  • প্রকাশ: সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১৪৮ বার দেখা হয়েছে

বেলুনে ব্যবহারের জন্য সিলিন্ডারের ভেতরেই হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা চায় বিস্ফোরক পরিদফতর। এই উদ্দেশ্যে  সংস্থাটি একটি প্রতিবেদন তৈরি করে  মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ অক্টোবর মিরপুরের রূপনগরে বেলুনে গ্যাস ভরার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সাত শিশু মৃত্যুবরণ করে। ওই সময় আরও ১৫ জন আহত হয়। ঘটনার পর পরই বিস্ফোরক পরিদফতর দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ৫ নভেম্বর ওই তদন্ত প্রতিবেদন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে বলেও বিস্ফোরক পরিদফতর সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কিছূ সুপারিশ করা হয়েছে। এরমধ্য আছে মা-বাবা ও সন্তানদের হাইড্রোজেন ভরা বেলুন কেনায় নিরুৎসাহিত করা এবং কোথাও এই ধরনের সিলিন্ডার দেখলে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া।

সাধারণত দুই ধরনের গ্যাস দিয়ে বেলুন ফোলানো হয়। হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন। জানা গেছে, এক ঘনমিটার হিলিয়ামের দাম সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা বিপরীতে এক ঘন মিটার হাইড্রোজেনের মূল্য ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে সিলিন্ডারে এই হাইড্রোজেন তৈরি করতে খুব বেশি হলে ৬০ থেকে ১০০টার মতো খরচ হয়।  কম মূল্যে ব্যবসা করার লোভে বেলুনওয়ালারা না-জেনে, না-বুঝে  এসব প্রাণঘাতী কর্মকাণ্ড করেন।

বিস্ফোরক পরিদফতারের প্রধান পরিদর্শক সামসুল আলম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি, সিলিন্ডারের ভেতরে এভাবে হাইড্রোজেন তৈরি করা ‍খুব ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের প্রায় প্রত্যেক থানায় এ বিষয়ে সতর্ক করে আমরা চিঠি দিচ্ছি। আগেও দিয়েছি। এখন নতুন করে চিঠি দিচ্ছি।’

পরিদফতর সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ১৪ মে অবৈধভাবে বেলুনে হাইড্রোজেন গ্যাস ভর্তিকরণ, বিনা লাইসেন্সে এলপিজির মজুদ, বিক্রয় ও সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন উৎসব ও মেলায় সিলিন্ডারে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদন করে বেলুনে ভর্তি করে সরবরাহ এবং মেলায় ছোট ছেলে-মেয়েদের কাছে বিক্রি করছে। এই ধরনের সিলিন্ডার থেকে বেলুনে হাইড্রোজেন গ্যাস ভর্তির সময় সিলিন্ডার ও বেলুন বিস্ফোরিত হয়ে ব্যবহারকারী এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানিসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটছে।

জানা গেছে, বিভিন্ন পরিত্যক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী সিলিন্ডারকে হাইড্রোজেন তৈরির রি-অ্যাক্টরে রূপান্তর করে কস্টিক সোডার জলীয় দ্রবণের সঙ্গে অ্যালুমিনিয়ামের টুকরা মিশিয়ে সিলিন্ডারে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদন করে বেলুনে ভর্তি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদন প্রক্রিয়াটি একটি তাপ উৎপাদনকারী পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রচুর পরিমাণ হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদনের সঙ্গে-সঙ্গে প্রচণ্ড তাপ উৎপাদন করা হয়। অন্যদিকে কস্টিক সোডা সিলিন্ডার ক্ষয়কারী বিকারক। যা সিলিন্ডারের পুরুত্ব ক্ষয় করে এবং সিলিন্ডারের চাপসহন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। সিলিন্ডারের মধ্যে উৎপাদিত হাইড্রোজেন গ্যাসের অণুগুলোর  গতিশক্তি বেড়ে যাওয়ায় সিলিন্ডারেরর গায়ে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। সিলিন্ডারের চাপ সহনীয় মাত্রা এক সময় অতিক্রম হওয়ায় সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটে।

জানা গেছে ‘বিস্ফোরক অ্যাক্ট-১৮৮৪’ এবং ‘গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা-১৯৯১’, ‘এলপিজি বিধিমালা-২০০৪’ অনুযায়ী এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এজন্য ওই তিন অ্যাক্ট ও বিধিমালা ছাড়াও ‘পেট্রোলিয়াম আইন-২০১৬’ এর ২০ ধারা অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। এই আইনগুলোর আওতায় যে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর জন্য বিস্ফোরক পরিদফতর থেকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
© All rights reserved © Sandhani TV
Theme Design by Hasan Chowdhury