1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন

আমার প্রতি মানুষের ভালোবাসা শুধুই বেড়েছে: তাহসান

  • প্রকাশ: শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ২৬০ বার দেখা হয়েছে

এই সময়ের আলোচিত তারকা শিল্পী, অভিনেতা তাহসান রহমান খান। যার সৃজনশীল কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন তারুণ্য থেকে সববয়সী মানুষের কাছে পরিণত হয়েছেন ‘আইকনিক ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে। শোবিজের উজ্জ্বল নক্ষত্র বলা হয় তাকে। গানের মানুষ হিসেবে তিনি যেমন সফল, তেমনি অভিনয়ে এসেও দ্যুতি ছড়িয়েছেন। কোনো মাধ্যমেই ক্যারিয়ারে দাগ পড়তে দেননি। সম্প্রতি পূর্ণ করেছেন শততম নাটক! সাফল্যের ধারাবাহিকতায় অভিনয় করেছেন সিনেমাতেও। চলতি বছর মার্চে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত প্রথম সিনেমা। জীবনের নানা কাহিনী উঠে এসেছে তার সঙ্গে আলাপচারিতায়।

১৮ বছরের ক্যারিয়ার আপনার। অল্পকথায় মূল্যায়ন শুনতে চাই…

১৮ বছরে দেখেছি, আমার প্রতি মানুষের ভালোবাসা দিনের পর দিন শুধুই বেড়েছে। ভক্তদের কাছে আমার ভালোবাসাটা স্পেশাল। তারা শুধু ছবি তুলেই আমাকে ভুলে যায়নি। ১৫ বছর আগের গান এখনও যখন আমি গাই, তখন দেখি রাস্তাঘাট ব্লক হয়ে যায়। কাজ করে যেকোনো স্বীকৃতি যখন পাই, তখন মনে হয় এটার প্রাপ্য আমার ওইসব ভক্তরা। সবসময় বলি, ভক্তদের কারণে আমি বাংলাদেশে ‘ওয়ান অব দ্য লাকিয়েস্ট’ সেলেব্রিটি।

দাম্পত্য বিচ্ছেদের পর আপনি নিরব ছিলেন। তারকাদের বিচ্ছেদ হলে নাকি তারা আর ক্যারিয়ারে শক্ত অবস্থান তৈরী করতে পারেন না। আপনার ক্ষেত্রে তেমনটা দেখা যায়নি। ওই খারাপ সময়টা সামাল দিয়েছেন কীভাবে?

বিচ্ছেদ যখন হয়, তখন মানুষ কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করে। আমি কখনোই এমন কাজে লিপ্ত হইনি। কারণটা হলো, আমি এখন যা বলবো, আমার মেয়ে বড় হয়ে সেগুলো শুনবে, দেখবে। আমি কখনোই চাইনা, আমার মুখ থেকে কোনো কটু কথা বেরিয়েছে এটা আমার মেয়ে জানুক। শুধু বিচ্ছেদ কেন, আমি ব্যান্ডদল ‘ব্ল্যাক’ থেকে বেরিয়ে আসার পরও চুপ ছিলাম। যখনই ভাঙন হয়, দুই পক্ষের ন্যারেটিভ থাকে। যদি ন্যারেটিভগুলো প্রকাশ পায়, তবে তিক্ততার শিখরে চলে যায়। এই তিক্ততায় ভাঙনগ্রস্ত ওই দুজন মানুষের লাভ হবে না। শুধু যারা গসিপ করবে তাদের লাভ হবে। মূল কথা হলো, আমি যদি ভুল করে থাকি তবে সেটা প্রকাশ পেত। আমি সঠিক কিনা সেটাও প্রকাশ পেয়েছে।

দেশে যে ক’জন ‘ক্লিন ইমেজ’-এর তারকা আছেন, তাদের মধ্যে আপনি একজন। কীভাবে এই ইমেজ ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে? আমি জানি যে, প্রকৃতি প্রকাশ করবে আমি কে! আমি যদি প্রতিনিয়ত ক্লিন প্রমাণের চেষ্টা করি তাহলে আমি ক্লিন থাকবো না। আমার নামে যদি কেউ মিথ্যে কিছু রটায়, তাহলে আমি কোনো উচ্চবাচ্য করবো না। কারণ, একটা সময় প্রকৃতি প্রকাশ করে দেবে, কোনটা সত্য! আর ১৬ কোটি মানুষকে আমি খুশী করতে পারবো না। আমার গান, সুর, অভিনয় দিয়ে যদি ৭-৮ কোটি মানুষ খুশী হয়, তারা যদি মনে করে তাহসান বাংলাদেশকে কিছু দিয়েছে, এজন্য যদি তারা আমাকে মনে রাখে এখানেই আমার স্বার্থকতা।

২০১৯ সাল গেল। এ বছরে মনে রাখার মতো গানের সংখ্যা হাতে গোনা দু-একটি। ঘুরে ফিরেই আগের গানগুলো বাজছে। কী বলবেন? সেদিন আমার এক বন্ধু বলছিল, এ বছর কোনো গান হিট হয়নি তোর বেইলি রোডের গান ছাড়া (হাহাহাহা)। তবে ওই গানটা ছিল আমার প্রথম অ্যালবামের প্রথম গান ‘দূরে তুমি দাঁড়িয়ে’। বেইলি রোডে একটি ইভেন্ট ছিল। তিনটা গান করেছি। তারমধ্যে ওই গানটা নতুন করে মানুষের কাছে ভালো লাগে। আসলেই এ বছর মনে রাখার মতো নতুন গান হয়নি। হয়তো ভিউস হয়েছে, কিন্তু মনে রাখার মতো গান না! কেন মনে রাখার মতো গান হচ্ছে না এটার উত্তর আমিও জানিনা।

গানের তাহসান… ২০২০ সালে গান নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

লেখা, সুর সব আমারই থাকবে। প্রতি মাসে একটা করে গান রিলিজ হবে। এটা আমার ব্যান্ড ‘তাহসান এন্ড দ্য ব্যান্ড’ থেকে হবে। একেবারে ব্যান্ড ফ্লেভারের গানই হবে।

ক’দিন আগে আপনার লেখা কবিতা ভাইরাল হয়েছে। আগে থেকে কবিতা লিখতেন?

এই কবিতা যখন প্রকাশ করার কথা ছিল সেটা ছিল গতবছর আমার জন্মদিনে। সেদিন আইয়ুব বাচ্চু ভাই মারা যান। তার মৃত্যুদিনে প্রকাশ করা সম্ভব ছিল না। তাই এবছর জন্মদিনে প্রকাশ করেছি। ছোট থেকেই আমার কবিতা লেখার অভ্যাস। প্রথম লিখেছিলাম ক্লাস এইটে পড়াকালীন। তখন কবিতা লিখতাম, যেগুলো গান মনে হতো, গান হিসেবে সুর করতাম।

দেশের বাইরে আপনার ব্যস্ততা বাড়ছে?

শিক্ষকতা ছাড়ার পর দেশের বাইরের শোগুলো বেশি করা শুরু করলাম। যারা দেশের বাইরে আয়োজক তারা নিয়মিত আমার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করলো। প্রচুর শো করেছি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। আমার বেশিরভাগ সময় আমেরিকাতে যাওয়া হয়। এছাড়া কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াতেও মাঝেমধ্যে যাওয়া হয়। সবখানেই আমার শ্রোতা লক্ষণীয়। নিউ ইয়র্কে টেক্সিতে উঠলে বিল দিতে হয়না। সেখানে যারা টেক্সি চালান তাদের বেশির ভাগ বাঙালি! হাত তুললেই বলে, আরে তাহসান ভাই!

শিক্ষকতা ছাড়লেন কেন?

আমি ১০-১২ বছর শিক্ষকতা করেছি। ওই সময়ে দেশের বাইরের শোগুলো নিতে পারতাম না। কারণ, সপ্তাহ খানেক ছুটি নিতে হতো। সেমিস্টারের মাঝে ছুটি নেয়াটা সম্ভব হতো না। আড়াই বছর আগে আমি রিয়েলাইজ করলাম আমি অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল। কারও কাছে প্রমাণ করার কিছু নেই। বয়স যখন ৫০-৬০ বছর, তখন হয়তো শিক্ষকতায় ফিরে যাবো। আমি বুঝলাম, বাংলাদেশের মিডিয়াতে আমার প্রয়োজন আছে। কারণ, বাংলাদেশে কয়েকজন মূলত কাজ করি, তারা যদি ঝরে যায় তবে দেশের মানুষের চোখ অন্যদিকে ঘুরে যাবে। তাহলে ইকোনমিতেও ক্ষতি হবে। নিজেকে বড় করে বলছি না। আমি একটা ছোট্ট পার্ট যেটা ইগনোর করা যাবে না। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি থাকলে ইন্ডাস্ট্রির লাভ হবে।

সম্প্রতি শততম নাটকে কাজ করলেন। গান থেকে অভিনয়ে এসেছেন ২০০৮ সালে। কখন আপনি অভিনয়ে সিরিয়াস হলেন?

নীলপরি নীলাঞ্জনা, মন ফড়িংয়ের গল্প, মনসুবা জংশন এই তিনটা কাজের পর এমনভাবে সাড়া পেয়েছি, আমার কাছে মনে হয়েছে অভিনয় দিয়ে যদি আমাকে এতো মানুষ ভালোবাসে তাহলে এই কাজটাও আমাকে সিরিয়াসলি করা উচিত। এরপর থেকে আমি ধীরে ধীরে অভিনয় নিয়ে সিরিয়াস হই।

‘যদি একদিন’ সিনেমার পর ফারুকীর ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ সিনেমায় কাজ করতে যাচ্ছেন?

এই ছবিতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে অনেকগুলো চিন্তা কাজ করেছে। প্রথমত বাংলাদেশি একজন পরিচালক পৃথিবীর বুকে নাম করেছেন, এটা অনেক গর্বের ব্যাপার। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রথম ইংরেজি সিনেমা, সারা বিশ্বের কাছে এই ছবি অন্যভাবে উপস্থাপন করা হবে। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে, গল্পটা। এই ছবিতে আমার সঙ্গে আছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, এই মুহূর্তে পৃথিবীর কয়েকজন অসাধারণ অভিনেতার একজন হিসেবে তাঁকে ধরা হয়। সবকিছু মিলিয়ে প্রস্তাব পাওয়ার পর কাজটি করতে রাজি হয়েছি। শুটিং শুরু হবে আগামী জানুয়ারিতে।

আবারও ‘সেরা করদাতা’দের তালিকায় আপনার নাম এসেছে…!

শিল্পীর সাহায্য দরকার হলে ফলাও করে প্রচার হয়। কিন্তু কত পারিশ্রমিক নিচ্ছে, কত ট্যাক্স দিচ্ছে ওই ব্যাপারগুলো আমাদের দেশে ফলাও করে প্রচার হয় না। তাই বাংলাদেশের মানুষের মনে একটা ধারণা আছে, এই ফিল্ডে (শোবিজ) কাজের মাধ্যমে হয়তো ভালো ক্যারিয়ার গড়া যায় না! আমি ব্যবসা প্রশাসন ইন্সটিটিউট (আইবিএ)-এ লেখাপড়া করেছি। শুরু থেকেই মাথায় ছিল, এই ধারণাটা আমি পাল্টাবো কীভাবে! আমাদের দেশে ‘শো-অফ’ করাটা যেহেতু খারাপ, তাই গাড়ি-বাড়ি এগুলো দিয়ে ক্যারিয়ার গড়া যায় বোঝানো যাবে না। আমি বোঝাতে চেয়েছি, অন্যমাধ্যমে কাজ করে অন্যরা সফল হয়ে যেভাবে ট্যাক্স দিচ্ছে, আমরা শোবিজে পেশা গড়েও একইভাবে ট্যাক্স দিচ্ছি। এখানেও ভালো কাজ করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। পরবর্তী জেনারেশন যেন এই ব্যাপারটা মাথায় রাখে।

কিন্তু আমাদের দেশের শিল্পীরা কতো পারিশ্রমিক নিচ্ছেন, এটা বলতেই চাননা…

ট্যাক্সের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, বাংলাদেশে ১৮ লাখ মানুষ শুধু ট্যাক্স প্রদান করে। এর মধ্যে সবাই ট্যাক্স ফাইল করেন না। বেশিরভাগ মানুষ ট্যাক্স দেয় না, কারণ তাদের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা আছে একবার ট্যাক্স দিলে প্রতিবছর হয়তো হয়রানী করা হবে। তারা ভাবে, প্রতিবছর হয়তো ইনকামের ২০-৩০ শতাংশ টাকা ট্যাক্স দিতে হবে। এই জিনিসটা বদলাচ্ছে এটা তাদের বুঝতে হবে। ট্যাক্স দেওয়াটা দায়িত্ববোধ ও অভ্যাসের ব্যাপার। পারিশ্রমিকের ব্যাপারটা বলেনা কারণ ট্যাক্সের অ্যাটেনশন তার দিকে যেতে পারে। কিন্তু সারাবিশ্বে এই জিনিসটা খুব নরমাল। প্রতিনিয়ত আমরা বলছি, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে না। প্রশাসনকে মন্দ কথা বলছি। কিন্তু মন্দ বলার আগে একবারও কী ভাবছি, আমি আমার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছি কিনা?

ফারুকীর ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’-এ অভিনয় করবেন তাহসান…

শেষ প্রশ্ন। উত্তরটা আপনি চাইলে দিতে পারেন, আবার নাও পারেন। আপনি যে অবস্থানে আছেন সেখান থেকে নতুন সঙ্গী নিয়ে জীবনটাকে নতুন করে সাজানোর ইচ্ছে আছে? এ ব্যাপারে আপনার পরিবারের চাপ আছে কিনা!

অবশ্যই, জীবন সাজাতে হবে। তবে এটা আমার হাতে না। সৃষ্টিকর্তাই ঠিক করবেন। আর পরিবারের চাপ আছে। বাবা-মা অনেকদিন ধরেই আমাকে প্রেশার দিচ্ছেন। আমি বলেছি, তোমাদের দেখার কাজ, তোমরা দেখো। আর যদি বিয়ে হয় তবে আমার ব্যক্তিগত জীবন আর কখনো পাব্লিক করবো না। যে নতুন করে আমার জীবনে আসবে তার প্রাইভেসিটাও গুরুত্বপূর্ণ। পাব্লিক জানালেই, আমার নতুন বউ নিয়ে আবার ফেসবুক-ইউটিউবে নতুন গসিপ শুরু হবে! তাই যা কিছু করি না কেন সবকিছুই গোপন থাকবে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
© All rights reserved © Sandhani TV
Theme Design by Hasan Chowdhury