1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:২২ অপরাহ্ন

ঘুরে ফিরে কয়েকটি বিষয়েই আগ্রহ মেডিক্যাল উচ্চশিক্ষায়

  • প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৩১৮ বার দেখা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র তিন জন, আর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে আছেন ৯ জন। সারাদেশে মানসিক রোগের চিকিৎসকের সংখ্যা ২৫০ জন। আর ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগে ১৬০ থেকে ১৭০ জন চিকিৎসক। আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার রোগীর জন্য একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট থাকার কথা, অথচ দেশে প্রতি দেড় লাখ মানুষের জন্য অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট রয়েছে একজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এসব বিষয়ে এখন আর কেউ উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী হন না। বরং ঘুরে ফিরে মেডিসিন, স্ত্রীরোগ, প্রসূতি বিদ্যা ও জেনারেল সার্জারিতে উচ্চশিক্ষায় বেশি আগ্রহী হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, এমবিবিএস পাসের পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিষয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ঘুরে-ফিরে হাতে গোণা কয়েকটি বিষয়কেই বেছে নিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ফলে প্রচলিত কয়েকটি বিষয়ের বাইরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের সংকটও। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা.আ ম সেলিম রেজা চৌধুরী বলেন, ‘ফরেনসিক মেডিসিন আকর্ষণীয় বিভাগ হলেও এখানে রয়েছে শিক্ষক ও চিকিৎসক সংকট। বাধ্য না হলে কেউ এ বিভাগে আসতে চান না।’ কেন এই সংকট জানতে চাইলে ডা.সেলিম রেজা চৌধুরী বলেন, ‘ফরেনসিক মেডিসিনে যারা কাজ করেন, তাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ নেই। এ কারণে আর্থিক দিক বিবেচনা করেও অনেকে এ বিষয়ে পড়তে আগ্রহী হন না।’

সোহরাওয়ার্দীতে বর্তমানে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানান অধ্যাপক সেলিম রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘চার জন লেকচারের পদ ১৯৯০ সালের দিকে যখন সৃষ্টি করা হয়, তখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০০ জন বা তারও কম। কিন্তু এখন শিক্ষার্থী বাড়ছে, অথচ সে অনুপাতে শিক্ষক নেই। আনুপাতিক হারে এখানে লেকচারার থাকার কথা ১৬ জন, আছে মাত্র চার জন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ ও স্যার সলিমুলাহ মেডিক্যাল কলেজ Í দেশের এই  প্রধান চারটি মেডিক্যাল কলেজে ফরেনসিক বিভাগের একমাত্র অধ্যাপক আমি।’ ‘এটা ভীষণ হতাশাজনক’, বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থী অনুপাতে ফরেনসিক বিভাগে শিক্ষক থাকা দরকার অন্তত আট জন, অথচ  রয়েছে মাত্র তিন জন।’

সংশিষ্ট বলছেন, যেকোনও অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরা। এমনিতেই দেশে অ্যানেস্থিওলজিস্টদের সংখ্যা কম। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাগুলোতে সার্জন আর অ্যানেস্থিওলজিস্টদের অনুপাত খুবই কম। সদর হাসপাতালগুলোতে সার্জারি, অর্থোপেডিক্স,নাক-কান-গলাসহ সব বিভাগেই একজন সিনিয়র ও একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট থাকেন। কিন্তু  বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যানেস্থিওলজিস্ট থাকেন একজন । কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ দুজনের দেখা মেলে। যদিও সার্জন ও অ্যানেস্থিওলজিস্টদের সংখ্যা সমান বা কাছাকাছি হওয়া জরুরি। জানা গেছে, দেশে বর্তমানে মানসিক চিকিৎসার বিশেষজ্ঞ রয়েছেন ২৫০ জনের মতো। অথচ এ সংখ্যা থাকার কথা ১০ গুণ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ২৫০ জন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবনা মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে কর্মরত আছেন। এর বাইরে কোথাও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কোনও পদ নেই,চিকিৎসকও নেই। সংশিষ্টরা বলছেন, দেশের লোক সংখ্যা অনুযায়ী প্রতি একলাখে চিকিৎসক থাকার কথা তিন হাজার, কিন্তু আছে মাত্র একজন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ইকবাল আর্সলান  বলেন, ‘যারা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছেন তাদের প্রবণতা হচ্ছেÍ সার্জারি, গাইনি, মেডিসিনসহ হাতে গোণা কয়েকটি বিষয়ে প্রতি। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে অফ বিটের বিষয়গুলোতে তেমন আগ্রহ দেখায় না। দিন দিন এ প্রবণতা সম্প্রসারিত করছে।’

তিনি বলেন,‘এই ঘাটতি কী করে পূরণ করা সম্ভব, সে লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থা বা সেবা মুখ থুবড়ে পড়বে।’ অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সার্জারি-গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন, কিন্তু কোনও বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থিওলজিস্ট নেই।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যের যে ব্যবস্থাপনা সেটা করতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে সরকার চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালে অধ্যাপক মবিন খানকে আহ্বায়ক করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে চিকিৎসা শিক্ষার সার্বিক অবস্থা দেখার জন্য সরকার একটি কমিটি করেছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন-চারটি বিষয় বাদে সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, প্রতি দুই হাজার ৮০০ জনের জন্য একজন ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ থাকার নিয়ম। কিন্তু বাংলাদেশে দুই লাখ ৮০ জনের জন্য রয়েছেন একজন। আবার প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য একজন করে অ্যানেস্থিওলজিস্ট থাকার কথা, কিন্তু আছে প্রতি দেড় লাখ মানুষের জন্য একজন।

মানসিক রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অপ্রতুলতার বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘কেবল অপ্রতুল নয়, অনেক অপ্রতুল।’

এ বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিতে চিকিৎসকরা কেন আগ্রহী হন না প্রশ্নে ডা. হেলাল বলেন, ‘পদ চাইলে হয়তো সেটা আদায় করে নেওয়া যাবে, কিন্তু সেই পদগুলোতে বসবে কারা।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা পেশায় অনেকগুলো বিষয় রয়েছে, যেগুলো অনেক বেশি লুক্রেটিভ, আকর্ষণীয়, মেডিক্যাল কলেজগুলোতে পদও রয়েছে, একইসঙ্গে উপার্জনও বেশি। আবার উপজেলা পর্যায়ে এসব বিষয়ে পদ থাকাও জরুরি। কারণ, পদ থাকলে সেখানে চিকিৎসকরা যেতে আগ্রহী হন।’

ডা. হেলাল বলেন, ‘‘মানসিক রোগের চিকিৎসা নিয়ে বিবিধ সংস্কার রয়েছে। মানসিক রোগের চিকিৎসক মানেই সমাজে ‘পাগলের ডাক্তার’ বলে উপাধি পান। যে কারণে পরিবার থেকেও এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব থাকে।’’

শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এ সালেক  বলেন, ‘দেশে ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ১৬০ থেকে ১৭০ জন। কিন্তু বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে সেবা দেওয়ার জন্য অন্তত একজন করে হলেও ৫০০ থেকে ৭০০ এর মতো ফিজিক্যাল মেডিসিন বিষয়ক চিকিৎসক দরকার। ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে এ সংখ্যা আরও বেশি দরকার।’

বিএসএমএমইউ’র সাবেক সহ উপাচার্য ও জাতীয় স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব  বলেন, ‘‘যেহেতু দেশে ‘পোস্ট গ্রাজুয়েট এডুকেশন’ সরকার নিয়ন্ত্রণ করে, তাই সরকারকেই বলতে হবেÍ দেশে হিউম্যান রিসোর্স কোথায় কতটুকু লাগবে।’

তিনি বলেন, ‘‘যখন পোস্ট গ্রাজুয়েটে ভর্তি করা হবে, তখন চাহিদা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া উচিত। পাশের দেশ ভারতেও এ ব্যবস্থা রয়েছে। পোস্ট গ্রাজুয়েটে ভর্তির সময় সরকার ‘ইন্টারসেট’ করতে পারে।’ ‘যেহেতু টাকা দেয় সরকার, সুতরাং সরকার এটা সিদ্ধান্ত নিতেই করতেই পারে’,বলেন অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাদ হোসেন বলেন, ‘‘বিদেশে অ্যানেস্থেসিয়া যতটা মূল্যায়িত হয়, বাংলাদেশে সেরকম হয় না। একজন সার্জন যেভাবে ইভালুয়েটেড হন, একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরা সেভাবে ইভালুয়েটেড হন না। দেশের বাইরে একজন অ্যানেস্থিওলজিস্ট ‘অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ফিজিসিয়ান’, আর আমাদের দেশে কেবলই অ্যানেস্থিওলজিস্ট।’’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পেশায় অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরা কোনও ওয়ার্ড সুপারভাইজ করেন না। রোগী থাকে সার্জনদের। অ্যানেস্থিওলজিস্ট রোগীদের ‘ডিল’ করেন কেবল অপারেশন থিয়েটারে। এ কারণে সার্জনদের একটি কমন প্রবণতা হচ্ছে রোগী তাদের। সার্জনরা মনে করেন রোগীদের প্রতি অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের দায়বদ্ধতা তাদের তুলনায় কম। দেখা যায়, সার্জনদের এই মনোভাবের কারণে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরা ভেতরে ভেতরে অসন্তুষ্ট থাকেন। একই কোয়ালিফিকেশন নিয়ে যখন একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট কম মূল্যায়িত হন, তখন ডিসিপিনের প্রতি টেলেন্টেড চিকিৎসকদের আগ্রহ কমতে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।’

‘বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের পেমেন্টও খুবই কম’ এটাও এ বিভাগে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ না করার আরেকটি কারণ, উলেখ করেন ডা. শাহজাদ হোসেন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, এখানে অধ্যাপকের ছয়টি পদ থাকলেও বর্তমানে অধ্যাপক আছেন  তিন জন, ৯টি সহযোগী অধ্যাপকের পদে খালি রয়েছে তিনটি পদ। ১৫টি সহকারী পদের বেশিরভাগই শূন্য।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
© All rights reserved © Sandhani TV
Theme Design by Hasan Chowdhury