1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

অমিত শাহের বক্তব্যের সাফাই গেয়েছেন ওবায়দুল কাদের : মির্জা ফখরুল

  • প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৫৬ বার দেখা হয়েছে

ভারতের নাগরিকপঞ্জীর পক্ষে দেশটির বিজেপি সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যকে সমর্থন করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের আদর্শিক পিতা শেখ মুজিব সরকারের সময়কালকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে দ্বিধা করেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, গণবিরোধী, ভোটারবিহীন এবং দখলদার সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে কতটা নির্লজ্জ, হিতাহিতজ্ঞানশূন্য ও ক্ষমতালিপ্সু হতে পারে অমিত শাহের বক্তব্যকে সমর্থন করতে গিয়ে ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান সেটাই প্রমাণ করেছে। তিনি তার বক্তব্যের সাফাই গেয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে  রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারতের লোকসভায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশ, বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার সরকার সম্পর্কে মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা তার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাই। কিন্তু বিজেপি নেতার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল (বুধবার) যে বক্তব্য রেখেছেন তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতেই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে, বললেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, ভারতের পার্লামেন্টে অমিত শাহ যে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন সেখানে শুধু বিএনপি সময়কালকেই নয়, শেখ মুজিবের ৭১ পরবর্তী সরকার এবং বর্তমান অবৈধ সরকারকেও সরাসরি অভিযুক্ত করেছেন।

অমিত শাহের বক্তব্যর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যেখানে তিনি বলেন, ‘‘মাননীয় স্পিকার, সে দেশে কিন্তু নরসংহার থামেনি- একাত্তরের পরও বেছে বেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে’’। 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সংসদে পাসকৃত ‘নাগরিক সংশোধনী আইন (সিএএ) ও এনআরসি’ সঙ্কট নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সকল দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষসহ, জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট এবং বিশ্বের বিবেকবান মানুষরা চরমভাবে উৎকণ্ঠিত। বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের সকল ধর্ম, বর্ণ, মত ও পথের মানুষ এ আইনের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে সরব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি ‘দিল্লির রামলীলা ময়দানে’ প্রকাশ্য জনসভায় ‘নাগরিক সংশোধনী আইন (সিএএ) ও এনআরসি’ ইস্যুতে ভারতের জনগণের ক্ষোভ ও উৎকন্ঠা দূরীভূত করতে নমনীয় মনোভাব প্রকাশ করছেন। ঠিক এ রকম পরিস্থিতিতে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের পার্লামেন্টে দেয়া মিথ্যা, উদ্দেশ্যমূলক, ভিত্তিহীন ও ধর্মীয় বিভক্তি সৃষ্টিকারী বক্তব্যের পক্ষে অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সুস্পষ্ট হুমকিস্বরূপ রাখা অমিত শাহের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। 

অমিত শাহের বক্তব্য সমর্থনে ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছেন বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটা কি অসত্য?’

ফখরুল বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীন এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ওবায়দুল কাদের, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রাবীশ কুমার বাংলাদেশ, বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার সরকার সম্পর্কে যে বক্তব্য রেখেছেন তা সর্বৈব, মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বৈষম্যমূলক, ধর্মীয় বিভক্তি সৃষ্টিকারী এবং তা দু্ই দেশের (আওয়ামী লীগ ও বিজেপি) অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংকীর্ণ সুবিধা লাভের ঘৃণ্য কৌশলমাত্র। আপনি (ওবায়দুল কাদের) এবং দেশের স্বার্থবিরোধী অবৈধ সরকার অমিত শাহের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে সুস্পষ্টভাবে এদেশের মানুষের স্বার্থবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেননি, একইসাথে নাগরিক সংশোধনী আইন (সিএএ) ও এনআরসির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সকল নিরীহ সাধারণ ভারতীয় মানুষের স্বার্থহানিকর ঘৃণ্য সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।’’

ফখরুল বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার যে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় বিভাজনের কার্যক্রম শুরু করেছে, তারই উচ্চতর বা দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে এই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)। এই আইনের প্রধান লক্ষ্য বিশেষভাবে মুসলমান অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ। বিশেষ করে বাংলাদেশকে টার্গেট করেই এই আইন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সন্নিহিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ১৯ লাখ নাগরিককে এনআরসির মাধ্যমে নাগরিকহীন ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসির মাধ্যমে নাগরিকহীন ঘোষণা করার বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের পরবর্তী টার্গেট বাংলাদেশের বৃহত্তম সীমান্তবর্তী (২,২৬২ কিলোমিটার) রাজ্য পশ্চিমবাংলা। এ কথা সুস্পষ্টভাবে বলা যায়, ভারতের ‘নাগরিক সংশোধনী আইন (সিএএ) ও এনআরসির’ মাধ্যমে অবধারিত ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে একটি কথা সুস্পষ্টভাবে দেশের মানুষ বূঝতে পারছে, আওয়ামী লীগের কাছে দেশের স্বার্থ নয়, ক্ষমতাই মুখ্য। 

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
© All rights reserved © Sandhani TV
Theme Design by Hasan Chowdhury