ফুলকি ডেস্ক : নগদ টাকা বহন ও নগদ টাকায় কেনাকাটার নির্ভরতা কমাতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচিতে ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ বিনির্মাণে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডিজিটাল ওয়ালেট। দেশে একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেট সেবা দিচ্ছে। ওয়ালেট বা মানিব্যাগ নয়, হাতের মোবাইলই এখন রূপ নিচ্ছে ওয়ালেটে।

দেশে নেক্সাস পে, আই-পে, ডি-মানি, ইউপে’র মতো পেমেন্ট ওয়ালেট রয়েছে। অন্যদিকে পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে কাজ করছে এসএসএল, সূর্যমুখীসহ ৭/৮টি প্রতিষ্ঠান। দেশের ভেতরে এসব প্রতিষ্ঠান কাজের ক্ষেত্রে এরইমধ্যে একটি ধারা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে ডিজিটাল ওয়ালেট হিসেবে মোবাইল ফোন স্ক্যান করার কথা থাকলেও প্রযুক্তিগত কারণে এখনও তা শুরু করা যায়নি। বর্তমানে কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে হয়। এটিও শিগগিরই চালু হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বখ্যাত পেমেন্ট প্রসেসর পে-পল সরাসরি বাংলাদেশে আসবে না। প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়ও বাংলাদেশ নেই বলে জানা গেছে। তবে পে-পল তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জুমের সঙ্গে এ দেশে সেবা দিচ্ছে জুম-পেপল নামে।

দেশে ডিজিটাল ওয়ালেট ও পেমেন্ট গেটওয়ে থাকলেও দেশে ও দেশের বাইরে পণ্য ও সেবা কেনাকাটায় স্বতন্ত্রধারা ও জনপ্রিয়তা তৈরি করেছে বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড। কিন্তু এই ক্রেডিট কার্ড নিয়েও গ্রাহকের অভিযোগের শেষ নেই। দেশে বসে দেশের বাইরে কোনও কিছু কেনা, ডুয়াল কারেন্সি ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট দিতে জটিলতা, অনুমতি নেওয়া, লেনদেন সীমাবদ্ধ করে দেওয়া ইত্যাদি জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দূর করতে পারলে ক্রেডিট কার্ডও ডিজিটাল ওয়ালেটের জায়গা করে নেবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘‘পে-পল বাংলাদেশে আসবে না। অদূর ভবিষ্যতেও আসার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে যে কাজের জন্য পে-পল প্রয়োজন হতো, তা আমরা (বেসিস সদস্য ও ফ্রিল্যান্সার) ‘স্বাধীন’ নামের কার্ডের মাধ্যমে সমাধান করেছি। মাস্টার কার্ড, পেয়োনিয়ার কার্ড ও ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে সমাধান হচ্ছে। দেশের যারা আউটসোর্সিং করে দেশে টাকা আনতে চায়, তারা তাদের কাজের বিনিময়ে এই মাধ্যমে টাকা এনে কার্ডের মাধ্যমে তুলে নিতে পারছে। চাইলে কেউ ব্যাংকে রাখতে পারছে।’’ তিনি জানান, কার্ডে কেনাকাটায় এখন কোনও সমস্যা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটায় বারবার অনুমতি নেওয়ার কথা বলেছিল। আমরা দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টির সমাধান করেছি। এখন আর বারবার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

ডিজিটাল ওয়ালেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এটা ভালো একটি উদ্যোগ। ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। তবে ইউনিফায়েড একটা সমাধানে আসা প্রয়োজন। একটা কমন কিউআর কোড দিয়ে যদি সব ওয়ালেটের পেমেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে তা আরও সহজ হয়। বিভিন্ন ওয়ালেটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।’’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের জুন মাসের শেষ নাগাদ দেশে ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১২ লাখ তিন হাজার ৪২৭ জন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকের মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকের গ্রাহক ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৯ জন। আর বিদেশি ব্যাংকের গ্রাহক এক লাখ ৩০ হাজার ৪৬৮ জন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা ৫৬১ জন।

ক্রেডিট কার্ডে (ডুয়াল কারেন্সিসহ) দেশের বাইরে এবং দেশে থেকে দেশের বাইরে সেবা বা পণ্য কেনাকাটায় অনেক সময় সমস্যা হয়। অনেকে সমস্যায় পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন সময়। কিন্তু কেন সমস্যা হয়, তা জানতে চাইলে সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘আক্ষরিক অর্থে কোনও সমস্যা নেই। যদি কেউ নিয়মমাফিক পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ও কার্ডের ফরেন পার্ট ওপেন করে নেন (নিরাপত্তার জন্য), যা কিনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরই নির্দেশনা। তবে তা হতে হবে বছরে ১২ হাজার ডলারের মধ্যে। পক্ষান্তরে কিছু উন্নয়নশীল দেশ এবং কিছু অনুন্নত দেশে যেখানে কার্ডের ব্যবহার জনপ্রিয় নয়, সেখানে কার্ড ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে।’

৩০০ ডলারের বেশি কিনতে গেলে অনুমতি নিতে হয়, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ীই এমনটা করা হয়। তবে হোটেল বুকিং, ভিসা প্রসেসিং ফিস, আইইএলটিএস ফি পেমেন্টের ক্ষেত্রে শিথিলতা আছে।’

দেশের দুটি পেমেন্ট ওয়ালেট নির্মাণের সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠানের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডাচ বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে ও ইউসিবি ব্যাংকের ইউ-পে অনেক ভালো করছে। তিনি সম্ভাবনা দেখছেন ডি-মানির। তিনি আরও বলেন, এটা আসলে অভ্যাসের ব্যাপার। লোকজন এটা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। তিনি জানান, দেশের বাজার এখন বেশ বড়। যদিও এই বাজার এখনও তৈরির পর্যায়ে আছে। আরও পেমেন্ট ওয়ালেট এলে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক তৈরির জন্য ক্যাশব্যাক, ছাড়ের মতো অফার ঘোষণা করবে। ফলে তা গ্রাহকের পকেটেই যাবে।