1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৭:০১ অপরাহ্ন

ফুলকপি খাওয়ার উপকারিতা

  • প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৩৯৫ বার দেখা হয়েছে

পুষ্টিগুনে ভরপুর সবজি ফুলকপি,শীতকাল হল এই সবজিটি উৎপাদনের মূল সময়কাল।যদিও বর্তমানে ফুলকপি সারা বছর পাওয়া যায়।তবে,স্বাদের কথা বিবেচনা করলে শীতকালের ফুলকপি স্বাদে উৎকৃষ্ট।আমাদের দেশে,ফুলকপি সাদা এবং হালকা হলুদ বা বাদামী বর্নের পাওয়া গেলেও, বাইরের দেশে সাদা,হলুদ বা পার্পল বর্ণেরও পাওয়া যায়।

ফুলকপির পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম ফুলকপিতে ক্যালরি রয়েছে ৩১,প্রোটিন ৩.৩ গ্রাম,ফ্যাট ০.৮ গ্রাম,ফাইবার ১.১ গ্রাম,শর্করা ০.৮ গ্রাম।সুতরাং,বুঝতেই পারছেন দামে বেশ সস্তা হলেও পুষ্টিগত দিক দিয়ে খুবই উপকারি ফুলকপি।পাশাপাশি,স্বাদের দিক থেকেও দারুণ সুস্বাদু।আর এই সবজিটিতে নানাভাবে রান্না করে খাওয়া যায়।ফুলকপি মাংসের সাথে,ডালের সাথে,চাপ বা কাবাব হিসাবে,মাছের সাথে ঝোল বা স্যূপ/সালাদ অনেক ভাবে খাওয়া যায়।

ফুলকপির হেলথ বেনেফিটস

  • ফুলকপিতে উচ পরিমাণে বিভিন্ন রকমের উপকারী পুষ্টি উপাদান যেমন: ফোলিক এসিড,ভিটামিন-সি,ভিটামিন-কে,কোলিন,ছাড়াও অন্যান্য উপাদান রয়েছে।তবে,ক্যালরি খুব বেশি নেই।তাই,এটি একাধারে স্বাস্থ্যসম্মত এবং পুষ্টিকর।
  • ফুলকপিতে বিদ্যমান‘সালফোরাফোন” রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করতে এবং ক্যান্সারের স্টেমসেল গুলোকে ধ্বংস করার মাধ্যমে টিউমারের গ্রোথকে বাঁধা দেয়।এছাড়া,ফুলকপিতে থাকা “ইনডোল” প্রস্ট্রেট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং আইসোথায়াসিনেট ব্রেস্ট,কোলন,ইউটেরাস এবং লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • ফুলকপিতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে যা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে এবং কার্ডিয়াক কমপ্লিকেশনস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • সুস্বাদু এই সবজিতে খুব ভাল পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেটের নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।পাশাপাশি,যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য সঠিক পরিমাণে ফাইবারের চাহিদা পূরনের জন্য খাদ্য তালিকায় এই সবজিটি রাখতে পারেন।
  • আমরা নানা কারণে বিভিন্ন সময় শরীরে বিভিন্ন রকম প্রদাহ,যন্ত্রনা বা ব্যথার সমস্যায় ভুগে থাকি যা দূর করতে নিয়মিত খাদ্য তালিকায় এই সবজিটি রাখা যেতে পারে।তবে,যদি গাউটের কারণে প্রদাহ হয় তবে ফুলকপি কিছুটা সাবধানে খেতে হবে।কারণ,ফুলকপি পিউরিন সমৃদ্ধ।সেক্ষেত্রে,ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
  • ফুলকপিতে যে “ফাইটোকেমিক্যালস”রয়েছে তা, টক্সিক উপাদান সমূহকে ভেঙ্গে কিডনি ড্যামেজ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।পাশাপাশি,গল ব্লাডারের সুরক্ষার জন্য এই “ফাইটোকেমিক্যালস” বেশ কার্যকর।
  • সুস্বাদু এই সবজিটিতে গুরুত্বপূর্ন বি ভিটামিন-কোলিন রয়েছে যা মস্তিস্কের বিকাশে সাহায্য করে।সুতরাং,গর্ভবতী মা এবং যারা আলঝেইমার রোগে ভুগছেন তাদের জন্য এটি খুব উপকারী।এছাড়া,গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল হেলথের জন্য এই উপাদানটি ভীষণ উপকারী।
  • ফুলকপিতে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট “গ্লুটাথায়োন” দেহের ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ফলে,আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
  • যারা,স্কিন ভাল রাখতে চান তারা নিয়মিত ফুলকপি খেতে পারেন।ফুলকপিতে ভাল পরিমানে ভিটামিন-সি রয়েছে যা আমাদের দেহের কোলাজেন প্রোডাকশনে সাহায্য করে।যা,রিংকেল বা এজিং প্রসেস কে ধীর করে দেয়।এছাড়া,ফাইন লাইন দূর করা এবং ক্লিয়ার স্কিন পাবার জন্য ভিটামিন-সি।

সতর্কতা:

নিঃসন্দেহে,ফুলকপি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।তবে,বিশেষ কিছু রোগের ক্ষেত্রে,ফুলকপি পুষ্টিকর হলেও কখনো কখনো খাদ্য তালিকা থেকে সাময়িক সময়ের জন্য বাদ দিতে হবে।বিশেষ করে,যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে তাদের উচিত যতদিন পর্যন্ত থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে না আসে ততদিন পর্যন্ত ফুলকপি খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেয়া।যদি খুব বেশি খেতে ইচ্ছা করে সেক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে খুব ভাল ভাবে সিদ্ধ করে খাওয়া।

যারা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন তাদের ও অতিরিক্ত পরিমাণে ফুলকপি খাওয়াথেকে বিরত থাকতে হবে।কারণ,বেশি পরিমাণে খেলে গ্যাস্টিক হবার সম্ভাবনা রয়েছে।মনে রাখতে হবে,একজন মানুষকে সুস্থ থাকার জন্য সারাদিনে ৪০০-৪৫০ গ্রাম ফল এবং শাকসবজি অর্থাৎ ফাইবার গ্রহণ করা উচিত।সুতরাং,শুধু ফল বাশাক বা সবজি নয় বরং এই তিনটি মিলিয়েই অন্তত ৪০০ গ্রাম খেতে হবে।

লেখক: পুষ্টিবিদ, বেক্সিমকো ফার্মা লিমিটেড।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
© All rights reserved © Sandhani TV
Theme Design by Hasan Chowdhury