1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই বছর পার ইসির

  • প্রকাশ: সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ২৫১ বার দেখা হয়েছে

বিদায়ী বছরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভেতরে-বাইরে আলোচনা-সমালোচনা ছিল তুঙ্গে। বলা যায়, সাংবিধানিক সংস্থাটি বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল না। বিতর্কের সূত্রপাত হয় ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে। তবে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসায় ইসির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় যে গতিতে উঠেছিল দলটির সুপরিকল্পিত নেতৃত্বের বদৌলতে ওই যাত্রায় রক্ষা পেয়েছিল তারা। এ নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ জানিয়েছিল কমিশনও।

সাবেক ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ (বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব) এই তুষ্টির কথা জানিয়ে বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতন্ত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অত্যন্ত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এই নির্বাচনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন কমিশনও এই নির্বাচনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে জাতীয় ঐক্যের ছায়াতলে থেকে সংসদ নির্বাচন করা বিএনপির সমালোচনার ধার ধীরে ধীরে কমতে থাকে। নির্বাচনের পর নানা সমালোচনার পর কমিশন নিজেদের গুছিয়ে নিতে শুরু করে।

ইসিকে নিয়ে বিপক্ষের বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নুরুল হুদা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে বিএনপির যে অভিযোগ তার ভুল একদিন ভাঙবে। বরিশালের বানারীপাড়ায় এক নির্বাচন উপলক্ষে সফরে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।

এদিকে, সংসদ নির্বাচনের সমালোচনা শেষ না হতেই নতুন করে আরেকটি বড় নির্বাচন উপজেলা পরিষদের প্রস্তুতিতে নেমে পড়ে ইসি। সংসদ নির্বাচনে ইসির ওই কর্মকান্ডের কারণে স্থানীয় এ নির্বাচন থেকে দলকে সরিয়ে রাখে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনও তাদের নির্বাচনমুখী করাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তখনকার ইসি সচিব এ বিষয়ে বলেছিল, বড় কোনো দল ও জোট আসন্ন স্থানীয় সরকারের আওতাধীন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেবে না ইসি। ফলে দেশজুড়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জাতীয় পাটির কিছু প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয় ইসিকে।

সব দলকে নির্বাচনে আনার উদ্যোগ না নেয়ায় কঠোর সমালোচনার মুখে ছিল ইসি। এত কিছুর পরও ইসির সন্তুষ্টির কোনো কমতি ছিল না। পরে সাবেক মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং দুই সিটির বর্ধিত ওর্য়াডে কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচন করে দুর্নাম কিছুটা ঘূচিয়ে আনে ইসি। তবে বিএনপি এ নির্বাচনেও অংশ নেয়নি।

তবে বছরজুড়ে নির্বাচন ইস্যুতে নানা বিতর্ক থাকলেও তা কমিশনকে ততটা বিব্রত করতে পারেনি। কারণ সাংবিধানিক সংস্থার কাছে নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক নতুন কিছু না; ভালো নির্বাচন করলেও এ ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাদের। তাই এ ইস্যুতে খুব একটা গায়ে মাখে না তারা।

সংসদ ও উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে বিশাল পরিসরে আয়োজন করা নির্বাচন প্রশিক্ষণে চরম অনিয়ম করা হয়েছে গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রচার হওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে পড়তে হয়েছে ইসিকে। সিইসি, ইসি কমিশনার, সাবেক সচিব এবং ইসির সব পর্যায়ের কর্মকর্তাকে জড়িয়ে প্রশিক্ষণের নামে অর্থের হরিলুট শিরোনামটি কমিশনকে চরম বিতর্ক ও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। কারণ সিইসি, কমিশনার ও সচিবের কথা বলেই লুটে নেয় প্রায় ২ কোটি টাকা। এ নিয়ে কমিশনের অভ্যন্তরে ব্যাপক তোলপাড়ের মধ্যে ইসি সচিবালয় ও ইটিআইয়ের কর্মকর্তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এমনকি ইসির গণসংযোগ শাখার প্রধান কর্মকর্তাকেও ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। কিন্তু প্রশিক্ষণের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। অফিসার হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। ইটিআইয়ের সাবেক ডিজি দক্ষ অফিসার হিসেবেও সবার কাছে পরিচিত। তাকেও সরে যেতে হয়েছে প্রশিক্ষণের অভিযোগে। তবে কথায় বলে, পানি গড়ালে নিচের দিকেই নামে; সব দোষ অধঃস্তনদের কাঁধেই চাপে। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ছিল না। এভাবে সময়ে সময়ে বিতর্কের মধ্যে নিজেদের চলতি বছর শেষ করতে হচ্ছে ইসিকে।

এদিকে নির্বাচন, ভোটার তালিকা, নিয়োগ, ইভিএম নানা ইস্যুতেও দ্বিধা-বিভক্ত ছিল কমিশন। সাবেক সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ চলে যাওয়ার পর নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পায় সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। এরপর থেকে কমিশনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা ইস্যুতে সিইসি-সচিব মিলে সব কার্যক্রম চালাতে থাকে। অনেক বিষয় কমিশনারদের অগৌচরে হচ্ছে এমন অভিযোগ তোলেন কমিশনাররা। এর নেপথ্যে বর্তমান সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর কাজ করেন বলে অভিযোগ কমিশনারদের। তারা বলেন, নানা ইস্যুতে তাদের (সিইসি-কমিশনার) কৌশলে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় সচিব।

সম্প্রতি ইসিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আবার আলোচনায় এসেছে নির্বাচন কমিশন। এই বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ছাড়া বাকিরা একাট্টা হয়েছেন। তাদের দাবি, একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন সিইসি। চার কমিশনারের মতকে পাশ কাটিয়ে একক সিদ্ধান্তে চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়োগ প্রক্রিয়া। এর আগেও গেল বছর চার কমিশনার একাট্টা হয়ে আন-অফিসিয়াল (ইউও) নোট লিখেছেন সিইসিকে। সেখানে তাদের দাবি ছিল, তাদের পাশ কাটিয়ে ইসিতে অনেক সিদ্ধান্ত হয়। যা তারা পরে পত্রিকা মারফত জানতে পারেন। বিষয়টি বিব্রতকর বলেও মন্তব্য করেন তারা।

এবার কমিশন সচিবালয়ে নিয়োগ ইস্যুুতে সিইসির বিরুদ্ধে চার কমিশনার একজোট হন। তারা এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সিইসির কাছে আনঅফিসিয়াল (ডিইও) নোট লিখেছেন। এর ফলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ‘কর্তৃত্ব’ নিয়ে ২০১৮ সালের মতো চলতি বছরেও ফের অসন্তোষ দেখা দেয়। এতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি সমন্বয়হীন হয়ে পড়েছে বলেও মত দেয় সুধী সমাজ।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
© All rights reserved © Sandhani TV
Theme Design by Hasan Chowdhury