প্রসবের সময় মায়ের গর্ভেই সন্তানের দেহ থেকে মাথা আলাদা হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে একটি হাসপাতালে। চিকিৎসকরা শিশুর মাথা বের করলেও দেহ রেখে দেয় অন্তঃসত্ত্বার গর্ভে। এই অবস্থায় তাকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা বিষয়টি রোগীর স্বজনদের জানালে রাগে-ক্ষোভে আগের হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় পরিবার।

ভারতের তেলেঙ্গানায় এ ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (১৮ ডিসেম্বর)। সন্তান প্রসবের সময় হয়ে যাওয়ায় তেলেঙ্গানার নাদিমপল্লির বাসিন্দা স্বাতীকে (২৩) ভর্তি করা হয় আচমপেট হাসপাতালে।

তেলেঙ্গানার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজমিনিট জানিয়েছে, স্বাতীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা জানায়, স্বাভাবিকভাবে ডেলিভারি করানো হবে। কিন্তু তার কোনো সমস্যা আছে কি না চিকিৎসকরা জানাননি।

স্বাতীর ভাষ্য, তাকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর লেবার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সুধা রানি নিজের সাহায্যের জন্য দুজন পুরুষ চিকিৎসককে ডেকে আনান। এর কিছুক্ষণ পর তারা জানান, অবস্থা জটিল। তাকে জরুরিভিত্তিক পেটলাবুর্জের মেটার্নিটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

দ্য নিউজমিনিট আরও জানায়, স্বাতীর রিপোর্ট দেখে জানা গেছে, তার সি-সেকশনের সময় শিশুর মাথা ছিঁড়ে যায়। বিষয়টি স্বাতীর পরিবারের কাছে গোপন রাখা হয়। পরে পেটলাবুর্জের হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা।

পেটলাবুর্জের হাসপাতালে নেওয়ার পর স্বাতীর অবস্থা দেখে চিকিৎসকরা তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। তারা বিষয়টা বুঝতে পেরে পরিবারের কাছে জানান। স্বাতীর পেটের সন্তানের মাথা তার দেহের সঙ্গে ছিল না। শুধুমাত্র তার দেহটিই পেটে ছিল।

বিষয়টি জানার পর রাগে-ক্ষোভে আগের হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় স্বাতীর পরিবার। আচমপেট হাসাপাতালের এই অবস্থায় পুলিশ সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যায়। তাদেরও মারধর করে স্বাতীর পরিবার। পরিস্থিতির জটিলতা দেখে আচমপেট হাসপাতালের সুপার তারা সিং ও ডা. সুধা রানিকে বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।