1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

বছরের সবচেয়ে আলোচিত ৪ খুন

  • প্রকাশ: বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১৫০ বার দেখা হয়েছে

২০১৯ সালে অনেক খুনের ঘটনাই ঘটেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে চারটি খুন। ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা, বরগুনায় রিফাত হত্যা, ছেলেধরা গুজবের বলি রেনু ও বুয়েটে আবরার হত্যা। এই চার খুন সবসময়ই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ফেনীর নুসরাত হত্যা অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে এপ্রিলে পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের সাত মাসের মাথায় অধ্যক্ষসহ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নুসরাত। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর গত ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে অধ্যক্ষ সিরাজকে। কিন্তু মামলা তুলে নিতে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দিতে থাকে সিরাজের সহযোগীরা। এরপর ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঁচ দিন সব যন্ত্রণা সহ্য করে ১০ এপ্রিল মারা যায় প্রতিবাদী মেয়েটি। নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করে কয়েকটি সংগঠন। মৃত্যুর আগে ৭ এপ্রিল নুসরাত হাসপাতালে পুলিশের কাছে যে জবানবন্দি দেন, তাতে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় প্রতিবাদে ফেটে পড়ে পুরো দেশ। পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধেও। এক পর্যায়ে তদন্তভার আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে। এজহারভুক্ত আট আসামির সঙ্গে আরও আটজনকে যুক্ত করে ১৬ জনকে আসামি করে ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০ জুন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ১৬ আসামির বিচার। ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে আসামিদের সবার ফাঁসির রায় আসে। অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে প্রথম মামলায় নুসরাতের জবানবন্দি নেওয়ার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকেও আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল। ছেলেধরা গুজবের বলি রেনু নামের এক ‘মা’ ‘পদ্মাসেতু নির্মাণে শিশুদের মাথা লাগবে। ইতোমধ্যে শিশু সংগ্রহ করতে সড়কে সড়কে ঘুরছে ছেলেধরা।’ বছরের মাঝামাঝি সময়ে একটি গ্রুপ ফেসবুকে এমন অপপ্রচার চালানোর পরপরই দেশব্যাপী শুরু হয় গণপিটুনি ও হত্যা। গ্রামে-গঞ্জে এমনকি শহর এলাকাতেও অপরিচিত কাউকে দেখলেই পিটুনি দেয়া শুরু হয়। ছেলেধরা গুজবের জনরোষে প্রাণ হারান তাসলিমা বেগন রেনু নামের এক ‘মা’। ২০ জুলাই সকালে বোরকা পরে বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েকে স্কুলে ভর্তির জন্য গিয়েছিলেন রেনু। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায়ও ভুগছিলেন তিনি। স্কুলের গেটে তাকে দেখে সন্দেহ হলে কয়েকজন নারী তাসলিমার নাম-পরিচয় জানতে চান। তার উত্তর অদ্ভুত মনে হলে তাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ততক্ষণে বাইরে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, প্রধান শিক্ষকের রুমে ‘ছেলেধরা’ আটকে রাখা হয়েছে। ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের ঘর থেকে রেনুকে বের করে মাঠে নিয়ে পেটায়। একপর্যায়ে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনা দেশবাসীর মনে দাগ কাটে। বাংলাদেশ পুলিশের হিসাবে, নিরপরাধ আটজন মারা গেছে এমন গুজবের শিকার হয়ে গণপিটুনিতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সবজায়গায় ছিল মর্মান্তিক এ মৃত্যুর গল্প। এ ঘটনার পরপরই সোচ্চার হয় পুলিশ। গণপিটুনিতে অংশ নেয়াদের গ্রেফতার ও গুজবসৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার পর থামে এ হত্যাকাণ্ড। বরগুনার রিফাত হত্যা: বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শারিফকে হত্যা করা হয় ২৬ জুন। স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। সেই ভিডিওতে দেখা যায় দুই যুবক রামদা হাতে কোপাচ্ছে রিফাতকে; আর মিন্নি চেষ্টা করছেন তাদের থামাতে। জানা যায় ওই দুই যুবক হল সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন, যিনি নিজেকে জেমস বন্ড ভাবেন বলে নাম নিয়েছেন নয়ন বন্ড। অন্যজন তার সহযোগী রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী। বন্ড গ্রুপ নামে দল গড়ে বরগুনা শহরে ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করেছিলেন তারা। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী করা হয়। এরপর ২ জুলাই নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। ধরা পড়েন রিফাত ফরাজীসহ কয়েকজন। কিন্তু পুলিশের তদন্তে পরিস্থিতি মোড় নেয় আরেক দিকে। নয়নের মা দাবি করেন, মিন্নি একসময় ছিলেন তার পুত্রবধূ, পরে রিফাতকে বিয়ে করেন। এক পর্যায়ে নিহত রিফাতের বাবা এ হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুললে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বলা হয়, স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন ওই তরুণী। রিমান্ড শেষে মিন্নি আদালতে জবানবন্দিও দেন। দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে উচ্চ আদালত ২৯ অগাস্ট মিন্নিকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্যাতন করে মিন্নির স্বীকারোক্তি আদায় করেছে পুলিশ। মিন্নিসহ ২৪ জনকে আসামি করে ১ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এ মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন আর অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১ জানুয়ারি তারিখ রেখেছে আদালত। বুয়েটে আবরার হত্যা: বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করে একদল ছাত্রলীগ কর্মী। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর ছাত্রলীগ ১১ জনকে বহিষ্কার করে। শিবির সন্দেহে ডেকে নিয়ে আবরারকে যেভাবে কয়েক ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, সেই বিবরণ হতবাক করে দেয় পুরো দেশকে। বুয়েটে র‌্যাগিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নির্যাতন যে নিয়মিত ঘটনা ছিল, সে বিষয়টিও প্রকাশ্যে আসে এরপর। এ ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় উঠে বুয়েট ক্যাম্পাসে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শিক্ষার্থীরাই জড়িতদের চিহ্নিত করে। আন্দোলনের মধ্যে তোপের মুখে পড়েন বুয়েট উপাচার্য। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়। আবরার হত্যা মামলায় ২৫ জনকে আসামি করে ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। সেখানে বলা হয়, শিবির হিসেবে সন্দেহের বিষয়টি ছিল আবরারের ওপর নির্যাতনের ‘একটি কারণ’। আসলে বুয়েট ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা অন্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ‘উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত’ হয়ে গিয়েছিল। এরপর হত্যায় জড়িত আসামিসহ ২৬ শিক্ষার্থীকে বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। আরও ২৬ জনকে বহিষ্কার করা হয় বিভিন্ন সময় র‌্যাগিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করার অভিযোগে। কর্তৃপক্ষ সব দাবি মেনে নেওয়ায় দুই মাস পর ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দেয় বুয়েট শিক্ষার্থীরা। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, আবরার হত্যা মামলার বিচার হবে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে। সেখানে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা না গেলে আরও ৪৫ দিন সময় নিতে পারে আদালত।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
© All rights reserved © Sandhani TV
Theme Design by Hasan Chowdhury