1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো…

  • প্রকাশ: সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ১৮৮ বার দেখা হয়েছে

মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলন। বায়ান্নর ফেব্রুয়ারির উত্তাল সেই দিনগুলো। রাজপথে উত্তাল মিছিলে ছাত্র জনতা কণ্ঠে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। এই আন্দোলনে পাকিস্তান বাহিনীর বুলেটবিদ্ধ রফিক শফিক জব্বারসহ নাম জানা অজানা অনেক শহীদ হন। বুলেটের প্রতিবাদে শাণিত কণ্ঠে সেদিন গেয়ে উঠেছিলেন গণসঙ্গীত শিল্পী আবদুল লতিফ গেয়েছিলেন ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়!’ এই কালজয়ী গান এখনও মানুষের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন ও আহমদ রফিক রচিত ‘ভাষা আন্দোলন ইতিহাস ও তাৎপর্য’ গ্রন্থে লিখেছেন, একাধিক ভাষা বা সম্প্রদায় অধ্যুষিত দেশ বিশেষ কোন সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক স্বার্থের অসম বিকাশ, তা কোন কারণেই হোক না কেন, অনুন্নত সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিক্রিয়া না করে পারে না। আর সেই প্রতিক্রিয়ার টানে ওই জাতি বা সম্প্রদায় সেই অসমতা দূর করার বা তাদের অবস্থা পরিবর্তনের ইচ্ছায় যে কোন রাজনৈতিক পন্থা গ্রহণ করতে পারে। বাংলাভাষার সঙ্গে বাঙালী মুসলমানদের শেকড় ছোঁয়া সম্পর্কের বিষয়টি প্রাসঙ্গিকভাবেই এখানে বিবেচনায় আসে। কিন্তু বাঙালী মুসলমানদের শিক্ষিত অংশ বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। উর্দুকে তারা চেয়েছিলেন মাতৃভাষা ও জাতীয় ভাষা হিসেবে। বাংলা উর্দু আরবির মধ্য থেকে বাঙালী জাতি তাদের আত্মঅন্বে^ষণ শুরু করেন। কায়দ আযম জিন্নাহ যখন ঢাকা সফরে এসেছিলেন তখন তার এই সফর শুধু সফরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা। তিনি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই এসেছিলেন। সেদিন তার বক্তৃতায় তিনটি কথা উল্লেখ করেন। উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, কম্যুনিস্ট ও বিদেশী চরদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্ররক্ষার প্রয়োজনে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যটি হলো লীগের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি। এসব কথা বলে তিনি গণতন্ত্রের কবর রচনা করে চলে গেলেন।

বদরুদ্দীন উমর ভাষাসৈনিক গাজীউল হককে নিয়ে লিখেছেন, ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেয়ার জন্য রাজনৈতিকভাবে যারা পরিচিত তার মধ্যে গাজীউল হক অগ্রগণ্য ব্যক্তি। ১৯৫২ সালে তিনি কোন রাজনৈতিক দল অথবা ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত না থাকলেও তৎকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু অবলম্বন করে যে রাজনৈতিক কার্যকলাপ ও তৎপরতা চলত তার সঙ্গে নিজ জেলা বগুড়া ও পরে ঢাকায় সম্পর্কিত থাকার কারণে তিনি ছাত্র ও রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিলেন। পরে তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও ভাল পরিচয় হলেও ’৫২ সালে সে রকম কিছু ছিল না। আমি তখন অবশ্য তাকে একজন ছাত্রনেতা হিসেবে জানতাম।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে যাদের সামান্য পরিচয় আছে তারাও জানেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আমতলায় যে বিখ্যাত ছাত্র জমায়েত হয়েছিল তাতে সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক। কীভাবে তিনি ওই জমায়েতে সভাপতিত্ব করার জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সেটা তার নিজের জবানীতে আমি বলব তার পত্র উদ্ধৃত করে। কিন্তু তার আগে বলা দরকার, আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে যখন ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস লেখার কাজ শুরু করি তখন ওই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করি, তার সাক্ষাতকার নেয়া ও তার কাছে কিছু কাগজপত্র থাকলে সংগ্রহের জন্য, যাতে আমি সেগুলো দলিল হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
© All rights reserved © Sandhani TV
Theme Design by Hasan Chowdhury