চীন থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। প্রাণঘাতি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৫ জনে। এ ছাড়া আক্রান্ত হয়েছে ২০ হাজার ৪৩৮ জন। চীনের বাইরে ফিলিপাইনে এ ভাইরাসে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর সেটি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। ভারত, স্পেন, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রায় ২৪টি দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত গোটা বিশ্ব। আরও বেশি চিন্তার কারণ হলো, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় এখনো মেলেনি।

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। এটি শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় করে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাতে পারে।

এদিকে, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত তেমন কোনো আশার আলো দেখাতে পারেননি। তবে বিজ্ঞানীরা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষার উপায় হিসেবে মাস্কে মুখ-নাক ঢেকে বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

কীভাবে মাস্ক ব্যবহার করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব-

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সঠিক আবহাওয়া ও সঠিক উপায়ে মাস্ক ব্যবহার করা হয়, এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ক্ষেত্রে তা কার্যকর হতে পারে। তবে চীন ছাড়া এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশে মাস্ক ব্যবহারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোন ধরনের মাস্ক পরবেন?

জর্জিয়ার আটলান্টার ইমোরি ইউনির্ভাসিটি স্কুল অব মেডিসিনের সহকারী প্রভাষক মেরিবেথ সেক্সটন জানান, সর্বাধিক পরিহিত, সস্তা এবং ডিসপোজেবল মাস্ক, যা সার্জিক্যাল মাস্ক হিসেবে পরিচিত, এটি করোনাভাইরাসকে আটকাতে পারে, তবে নির্মূল করতে পারে না।

এ ধরনের সার্জিক্যাল মাস্ক সাধারণত হলুদ বা নীল রংয়ের হয়ে থাকে, যা রাবারের মাধ্যমে শক্তভাবে কানের মধ্যে আটকানো যায়। এর মাধ্যমে মুখ, চিবুক ও নাক ঢাকা সম্ভব হয়। আর এসব মাস্কের ওপরে একটি লোহার স্ট্রিপ থাকে যা সহজে মুখ-নাক ঢেকে রাখে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মাস্ক পরার পাশাপাশি সেটি খোলার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। মাস্ক খোলার সময় খেয়াল রাখা উচিত যেন এতে কোনো ময়লা না লাগে এবং একবারে খোলা যায়।