1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরু

  • প্রকাশ: সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৯৬ বার দেখা হয়েছে

রূপপুরের পর দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জায়গা খোঁজার কাজ শুরু করেছে। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর উৎপাদনে যাওয়ার পর দ্বিতীয়টির কাজে হাত দেবে সরকার।

রাশিয়ার প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও কারিগরিসহ সার্বিক সহযোগিতায় পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ চলছে। দুই ইউনিটবিশিষ্ট এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিট চালু হবে আগামী ২০২৩ ও দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালে। রাশান ফেডারেশনের প্রযুক্তি এবং দেশটির আর্থিক, কারিগরিসহ সার্বিক সহযোগিতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত দেশের সর্ববৃহৎ এ প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর ৯০ ভাগ টাকা অর্থাৎ ৯১ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া। এই প্রকল্পটির সার্ভিস লাইফ টাইম ধরা হয়েছে ৬০ বছর, তবে এটি ১০০ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা যাবে। এই প্রকল্প উৎপাদনে গেলে প্রথম ২০ বছর রাশিয়ার ঋণ পরিশোধের সময় পাবে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, দ্বিতীয় প্রকল্পটিও বাস্তবায়নে রাশিয়া আগ্রহ দেখিয়েছে। চীনসহ আরো দুই একটি দেশেরও এ ব্যাপারে আগ্রহ আছে। তবে রূপপুরের ক্ষেত্রে যে ধরনের সুবিধা ও নিশ্চয়তা বাংলাদেশ পাচ্ছে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণকাজের জন্য যাদের সঙ্গেই চুক্তি হোক এ বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

কারণ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রকল্পে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার ও অর্থের দিকটাই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে চলেছে রাশিয়া। পাশাপাশি এই ধরনের প্রযুক্তিতে রাশিয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সব মিলিয়ে রাশিয়ায়ই সর্বাধিক প্রধান্য পাবে ওই সূত্রগুলো জানায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, ভিশন ২০২১, এসডিজি ২০৩০ এবং ভিশন ২০৪১-এর লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালে ৪০,০০০ মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালে ৬০,০০০ হাজার মেগাওয়াট নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে একক জ্বালানি অর্থাৎ প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী জ্বালানি ব্যবহারকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে সরকার।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী রূপপুরের ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমাসম্পন্ন দুই ইউনিট বিশিষ্ট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়নের পর ২০৩১ সালের মধ্যে ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরো দুটি ইউনিটের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর পর ২০৪১ সালের মধ্যে ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই ইউনিটের আরো একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার আওতায় দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয় বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান নির্বাচনের সমীক্ষা’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সমীক্ষা প্রকল্পের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জায়গা খোঁজার কাজ চলছে। পটুযয়াখালী ও বরগুনার কয়েকটি জায়াগায় সম্ভাবতা যাচাই করা হচ্ছে। এর পর বিদেশি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান যারা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাবে তারা পরীক্ষা নীরিক্ষা করে দেখার পর স্থান নির্বাচন চূড়ান্ত করা হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের দক্ষিণাঞ্চলে স্থাপনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ রয়েছে। তার আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জায়গায় ভূমি নির্বাচনের প্রাথমিক কাজ চলছে। প্রায় পাঁচটি স্থানের বিষয়ে প্রাক-সমীক্ষা চলছে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, মোট পাঁচটি জায়গার বিষয়ে পরিবেশ, প্রতিবেশ, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সমীক্ষা করা হচ্ছে। সব দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষ করে বরিশাল, বরগুনা ও পটুয়াখালীর দিকে। তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমিটিও অনেক বছর আগে নির্বাচিত করে রাখা। দ্বিতীয় কেন্দ্রটির জমি আমরা চাই রেডি করে রাখতে। তবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সফলভাবে উৎপাদনে গেলে দ্বিতীয় কেন্দ্র এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের অনেক দক্ষ লোকবল তৈরি হবে। তখন সেই লোকবল দ্বিতীয় কেন্দ্রটি নির্মাণে অনেকটা সহায়ক হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দ্বিতীয়টির দিকে এগিয়ে যাব। রূপপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে হাত দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জায়গা খোঁজা হচ্ছে। যাদের দিয়ে নির্মাণকাজ করানো হবে তারা উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
© All rights reserved © Sandhani TV
Theme Design by Hasan Chowdhury