ফুলকি ডেস্ক : চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে মৃতের মিছিল ক্রমশ বেড়েই চলেছে। রোববার একদিনে মারা গেছে আরও ১০৫ জন। ফলে দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৭০য়ে গিয়ে দাঁড়ালো। গতকাল সোমবার সকালে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা। স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, রোববার করোনাভাইরাসে দেশটিতে আরো ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১০০ জনই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। এছাড়া দেশজুড়ে নতুন করে আক্রান্ত হওয়া ২০৪৮ জনের মধ্যেও ১৯৩৩ জনই হুবেইর নাগরিক। ফলে চীনে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭০ হাজার ৫৪৮ হলো। তবে চীনা স্বাস্থ্য কমিশন জানাচ্ছে, তাদের করোনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কাজে আসছে। কেননা এতে নতুন করে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃতের সংখ্যা কমে আগের দিনগুলোর তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় চীনের স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ইউ শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টা কাজ করতে শুরু করেছে। সবমিলিয়ে বলা যায় এই মহামারি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’ এদিকে এশিয়ার বাইরে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে করোনায় আক্রান্ত একজনের মৃতের কথা জানা গেছে। করোনাভাইরাসে ইউরোপে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। শনিবার ফ্রান্সে এই ভাইরাসে আক্রান্ত এক চীনা বৃদ্ধ (৮০ বছর) মারা যান। এর আগে চীনের বাইরে ফিলিপাইন, হংকং ও জাপানে করোনায় মারা গেছে আরও তিনজন। শুধু ফ্রান্স নয়-কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, নেপাল, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান ও হংকংসহ আরো প্রায় ২৮ দেশে ইতোমধ্যেই ছড়িয়েছে করোনা। এর আগে আফ্রিকার দেশ মিশরেও করোনায় এক বিদেশি পর্যটক আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা গেছে। তবে তিনি কোন দেশের নাগরিক তা জানা যায়নি। প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। মহামারির আশঙ্কায় বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই চীন থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছে। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়া এ ভাইরাস ঠেকাতে চীন-ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম দশা চীনা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। শুধু চীন নয়, বিশ্ব জুড়ে বড় বড় গবেষকরা নেমে পড়েছেন নোভেল করোনা রুখে দেওয়ার ওষুধ তৈরিতে। কিন্তু এখনও এই ভাইরাসের কোনও প্রতিষেধক বা ওষুধ আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসকে বিশ্ববাসীর জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থার মহাপরিচালক ইথিওপিয়ার টেডরস আধানম গেব্রিয়াসেস বলেছেন, এ ভাইরাসটি ‘যেকোনো সন্ত্রাসবাদী পদক্ষেপের চেয়েও শক্তিশালী’হতে পারে।