1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

মহাবিপদে সাফিয়া, জলিলের চোখে আশার আলো

  • প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০
  • ৭৩ বার দেখা হয়েছে

দেশে ছুটি ঘোষণার পরই সাফিয়ার পরিবার বাড়ি চলে যান। দীর্ঘ দেড় মাস পর পরশু ফিরে আসেন অনেক কস্টে। এসেছেন ঠিকই, কিন্তু যেসব বাসায় কাজ করতেন সেসব পরিবার তাকে বলেছে চৌদ্দ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পর কাজে যোগ দিতে। সাফিয়া বসবাস করেন কদমতলী থানার মদীনাবাগ এলাকায়। গতকাল ৮৫ নাম্বার জনতাবাগ বাড়ির সামনে তার সঙ্গে কথা হয়। সাফিয়া বলেন, ভেবেছিলাম সরকার ছুটি দিয়েছে। এ অবস্থায় বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে চলে যাই।

গিয়ে পড়ি মহাবিপদে। ছুটি বাড়তে থাকে। গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হাতে যে টাকা ছিল তা শেষ হয়ে যায়। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে থাকি। ঢাকা থেকে গেছি বলে চেয়ারম্যান, মেম্বার ত্রাণও দেয়নি। অসহায় অবস্থায় কোন রকমে দিন পার করতে থাকি। পরে ঢাকায় যাদের বাসায় কাজ করি তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করি। আমার মা, বোনও আমার সঙ্গে থাকেন। তারাও বিভিন্ন বাসায় কাজ করেন। তারাও যেসব বাসায় কাজ করতেন সেখানে যোগাযোগ করেন। সবাই বিকাশে টাকা পাঠান। সেই টাকা দিয়ে মাইক্রোবাস ভাড়া করে পরশু ঢাকায় আসি। এখন আরো বিপদে পড়েছি। সবাই বলছে ১৪ দিন পরে কাজে যোগ দিতে। ঘরে কাজ ছাড়া সময় কাটছে। তবে এখন না খেয়ে থাকতে হচ্ছেনা। যাদের বাসায় কাজ করতাম তারা ইফতার দিচ্ছে। কেউ চাল কেনার টাকা দিয়ে সাহায্য করেছে। এখানে কেন দাড়িয়ে আছেন? সাফিয়া বলেন, এই বাড়ির তিন তলায় কাজ করি। খালাম্মা ফোন করেছে মাছ, আলু ও ৫০০ টাকা দিবে। গেইটের ভেতরে যাওয়া মানা। তাই দাড়িয়ে আছি। খালাম্মা নিচে নেমে এসব দিলে চলে যাবো। ওদিকে জনতাবাগেরই জলিল এতদিন তার কারখানা বন্ধ থাকায় বেকার ছিলেন। এখন কারখানা খুলেছে। আশার আলো দেখছেন চোখে। দীর্ঘ দেড় মাস খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছেন। আশপাশের মানুষজন সহযোগিতা করেছেন। জলিল বলেন, আমরা হাত পেতে খাওয়ার মানুষ না। তারপরও নিরুপায় হয়ে পড়েছিলাম। যারা নিজ ইচ্ছায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। জলিল বলেন, মহল্লার একজন আমার পরিবারের অবস্থা দেখে ত্রাণ পেতে লিস্টে নাম দিয়েছে। আমিও সম্মতি দিয়েছিলাম জীবন বাঁচাতে। জানিনা লিস্টে নাম উঠেছে কি না? লাইনে দাড়িয়ে ত্রাণ নেয়ার মতো ছিলাম না। এখন কারখানা খুলে দেয়ায় আশা করি আর্থিক দিয়ে কোন সমস্যা হবে না। সংসার চালিয়ে নিতে পারব। এখন ভয় হলো করোনার। বাইরে যাচ্ছি। যতটুকু সতর্ক থাকা যায় সে চেষ্টাও করছি। বাকিটা আল্লাহর উপর ভরসা। ওদিকে যাত্রাবাড়ীর সেই হাজেরা বেগম, তার ছেলে আবু ছালেহ ও তার স্ত্রীর করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার মুগদা হাসপাতাল থেকে তাদের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। হাজেরা মোবাইল ফোনে বলেন, আমরা বাসায় ভাপ নিচ্ছ ঘন্টায়, ঘন্টায়। চা ও গরম পানি খাচ্ছি। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে করোনা পজেটিভ জানালেও পরবর্তী করণীয় কি তা জনায়নি। পরিবারের তিনজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় মুষড়ে পড়েছে সবাই। অজানা ভয় কাজ করছে তাদের মনে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
© All rights reserved © Sandhani TV
Theme Design by Hasan Chowdhury