1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন

করোনা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়ও মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্ব

  • প্রকাশ: রবিবার, ১০ মে, ২০২০
  • ১৩৮ বার দেখা হয়েছে

কোভিড-১৯। প্রাণঘাতী এক ভাইরাস। এর প্রভাবে লন্ডভন্ড বিশ্ব। আক্রান্ত বাংলাদেশও। দেশে এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে ২ মাস। প্রথমে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম থাকলেও পরে তা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৬৫৭ জন। মৃত্যুর সংখ্যা ২২৮।

প্রতিদিনই মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। গত ১০-১২ দিনে প্রায় প্রতিদিনই পাঁচ শতাধিকের ওপরে শনাক্ত হয়েছে করোনা আক্রান্ত রোগী। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত-মৃত্যুর সংখ্যায় রাজধানী ঢাকা-ই হটস্পট। ৫০ শতাংশের বেশি সংক্রমণ হয়েছে এই শহরে। যাত্রাবাড়ি, রাজারবাগ, মিরপুর, কাকরাইল, মহাখালী, মুগদা, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, লালবাগ, উত্তরা, ও বাবুবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকা এখন করোনার রেড জোন। তবুও ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকায় মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্ব।

গত ২৬শে মার্চ থেকে দেশে কার্যত লকডাউন চলমান থাকলেও সম্প্রতি বিধি-নিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। ফলে করোনায় আক্রান্ত এলাকায়ও খোলা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ দোকানপাট। এসব এলাকার জীবনযাত্রা যেন অনেকটাই স্বাভাবিক। যত্রতত্র ঘোরাফেরা করছেন সাধারণ মানুষ। মানুষ বাইরে বের হচ্ছে নানা অজুহাতে। সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত না করে বাসার বাইরে বের হওয়ায় বাড়ছে করোনার ঝুঁকি। এই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যকর লকডাউন ব্যবস্থা না নেয়া হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লকডাউন শিথিল হলে সংক্রমণ বাড়বে নি:সন্দেহে।

এদিকে আজ রোববার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে খুলে দেয়া হয়েছে শপিংমল ও দোকানপাট। খুলছে পুরান ঢাকা, সদরঘাট, পাটুয়াটুরি, ইসলামপুর এলাকার পাইকারি মার্কেটগুলো। ধানমন্ডি, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা এলাকায়ও খোলা হয়েছে দোকানপাট।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়ত বের হচ্ছে সাধারণ মানুষ। খাবার কিংবা নিত্যপণ্য জিনিসের অজুহাতে এক এলাকা থেকে যাচ্ছেন অন্য এলাকায়। ফলে রাস্তাঘাট, দোকানপাটে বাড়ছে ভীড়। ভীড় বাড়ছে মহল্লার অলি-গলিতে। অনেকেই জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। মেতে উঠছেন হাসি-তামাশায়। কেউ কোথাও কোনো স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না। তিন ফিট দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও তা মানছে না কেউ। যার কারণে ক্রমেই ঝুঁকি বাড়ছে।

মোহাম্মদপুর থেকে সাংবাদিক সামস্-উল আলম মিঠু বলেন, এই এলাকায় প্রথম থেকেই করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এখন ব্যাপকহারে ছড়িয়েছে। তবে মানুষের মাঝে তার কোন প্রভাব দেখছি না। লোকজন আগের মতোই চলাচল করছে। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডসহ রাস্তার পাশে ছোট ছোট দোকানপাট খুলে বসছে দোকানিরা। অলি-গলিতে ঘুরাঘুরি করে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন রকমের মানুষ। এতে করোনার সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে। এখানে সামাজিক দুরত্বের অনেক ঘাটতি রয়েছে। এতে বিপদ বাড়াতে পারে।

কাকরাইলের ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, এই এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে মানুষের উপস্থিতি কমেনি। দিনে দিনে আরো বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি সবাই মেনে চলতে পারছে না। একইসঙ্গে একাধিক ক্রেতা এসে জড়ো হয়। খালি হাতেই অনেকে মালামাল নেয়। এতে যে কেউ করোনার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

মিরপুরের এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী জানান, নিয়ম শিথিল করার কারণে দোকান খুলেছেন। দোকানে বিক্রি স্বাভাবিক আছে। মানুষজনের উপস্থিতি বাড়ছে। তবে সামাজিক দুরত্ব মেনে চলার চেষ্টা করছি।

এদিকে দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮৮৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন আরো ১৪ জন। গত দুই মাসে এটাই সর্বোচ্চ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। আইইডিসিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজারবাগে করোনা আক্রান্ত ২০০, বৃহত্তর মিরপুরে ১৭৮, কাকরাইলে ১৭৩, যাত্রাবাড়িতে ১৬৯, মহাখালীতে ১৪৬ , মুগদায় ১৪৯ ও মোহাম্মদপুরে ১২৬ জন। এছাড়া তেজগাঁও, লালবাগ, উত্তরা, মালিবাগ ও বাবুবাজারে করোনা আক্রান্ত রয়েছেন ৭০ জনের বেশি মানুষ। আইইডিসিআর ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান তাহমিনা শিরীন গনমাধ্যমকে বলেন, আমরা এমন অনেককেই পেয়েছি যাদের কোন লক্ষণ ছিল না কিন্তু কোভিড-১৯ পজিটিভ। এমন মানুষ যখন ঘুরাফেরা করবে তাদের মাধ্যমে সংক্রমণ হওয়ার বেশি হবে। গার্মেন্টসে যারা কাজ করছেন তাদের মধ্যেও এমন শঙ্কা থাকতে পারে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
© All rights reserved © Sandhani TV
Theme Design by Hasan Chowdhury