1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

ঈদের নামাজ ঘরে পড়া, ইসলামী চিন্তাবিদরা কি বলছেন?

  • Update Time : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০
  • ৪ Time View

ঈদ মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব। ঈদে নামাজ পালনের মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। কিন্তু এবারের মতো ঈদুল ফিতর আর কখনো আসেনি। সাধারণত ঈদ জামাত হয় খোলা মাঠে। ঈদগাহে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে বিশ্বের দেশে দেশে ঈদ জামাতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হয়েছে। ঈদের জামাত খোলা ময়দানে পড়ায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। মসজিদে পড়তে বলা হয়েছে।

অপরদিকে দুদিন আগে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী এ ব্যাপারে ফেসবুক লাইভে বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন। বলেন, এটা নিয়ে অনেকের অনেক প্রশ্ন ও অনেক আলোচনা হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশের স্কলাররা বা যে ফতুয়া বোর্ডগুলো আছে তারা ব্যাপারটি নিয়ে গবেষণা করে ফতুয়া দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারটি নিয়ে এতো আলোচনার কারন হচ্ছে আমরা এর আগে এমন পরিস্থির সম্মুখীন হইনি।
এবারের রমজান অন্য রমজান থেকে আলাদা, যার কারনে এবারের ঈদও অন্য রকম ভাবেই পালিত হবে। এবারের ঈদের নামাজের মাসায়ালাও আলাদা ।

আমাদের সবার আগে জানতে হবে ঈদের নামাজের হুকুম কী?
আমরা বছরে দুই বার ঈদ উদযাপন করি। একটি ঈদুল ফিতর অন্যটি ঈদুল আযহা। ঈদের নামাজের হুকুম কী? এক্ষেত্রে স্কলারদের মতভেদ রয়েছে। মালেকী ও শাফেয়ী মাজহাবে এই ঈদের সালাত কে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
আর হাম্বালী মাযহাব মতে এটি ফরজে কেফায়া। অর্থাৎ এলাকার কিছু মানুষ যদি পালন করে তাহলে এলাকার অন্যদের আর পড়া লাগবে না।
হানাফী মাজহাব মতে ঈদের সালাত আদায় করা ওয়াজীব। শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়া ও ইমাম শাওকানী( র.) সহ অনেকেই এই মতামতকে গ্রহন করেছেন। তাদের মতে কেউ যদি এটাকে বাদ দেয় তাহলে সে গুনাহগার হবে।
এখন আমরা কোরআন সুন্নাহের দিকে যদি দৃষ্টি দেই তাহলে দেখবো যে অনেক গুরুত্বের সাথে এই সালাতের কথা বলা হয়েছে। সূরা কাউসারের ২ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে ‘’ ফাছোয়াল্লি লিরব্বিকা ওয়ানহার” অর্থাৎ অতএব তোমার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত পড় এবং নহর কর। যদিও এখানে ঈদুল আযহার কথা বলা হয়েছে যে তোমরা আগে সালাত আদায় কর এবং তারপর নহর করো। তাহলে এখানে আদেশ করা হয়েছে ঈদের সালাত আদায় করার জন্য। সহীহ বুখারীতে আমরা একটা হাদিস পাই,”হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খুতবা দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমাদের আজকের এ দিনে আমরা যে কাজ প্রথম শুরু করব, তা হল সালাত আদায় করা। এরপর ফিরে আসব এবং কুরবানী করব। তাই যে এরূপ করে সে আমাদের রীতিনীতি সঠিকভাবে পালন করল। আরো বলেছেন নারীদের নিয়ে যেনো ঈদগাহে যাই। তারাও জেনো ঈদের আনন্দে সামিল হতে পারে। যদি কোন নারীর মাসিক চলাকালীন সময় ঈদ আসে তাহলে তাকে নিয়েও ঈদগাহে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মহানবী (সাঃ)। এখন মাসিক চলাকালীন ময়ে নামাজ পড়া যাবে না, কোরআন ধরা যাবে না। তাহলে তারা কেনো যাবে। এ প্রসঙ্গে নবী(সাঃ) বলেছেন তারা যাবে জেনো তারা এই কল্যানের সাথে শরীক হতে পারে, আনন্দ জেনো ভাগাভাগি করে নিতে পারে। তারা ঈদগাহে ঢুকবে না, তারা বাহিরে থাকবে এবং মুসল্লিদের দোয়ায় শরীক হবে।
উম্মে আতিয়া (রাঃ) নবী (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করেন, যে সকল নারীর পর্যাপ্ত জামা বা ওড়না নেই তারা কী করবে? উত্তরে নবী (সাঃ) বলেন, তারা জেনো অন্য যে বোনের ২টা জামা বা ওড়না আছে তাদের থেকে নেয় এবং ঈদগাহে যায়।
এ থেকে বুঝা যায় নবী (সঃ) ঈদের নামাজের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই লকডাউনে যদি মসজিদে কোন কারনে নামাজ পড়া যায়নি, ঈদগাহেও নামাজ বন্ধ, তাহলে ঘরে নামাজ পড়তে পারবো কি না?
এর উত্তরে আগে আমাদের জানতে হবে যে,যখন পরিস্থিতি স্বভাবিক ছিল তখন যদি কেউ ঈদের সালাত কারন বশত ছেড়ে দিতো তাহলে কি সে পরবর্তীতে একা একা ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবে কি না।
এ নিয়ে ২ টি মতামত রয়েছে। প্রথম মতটা শাফেয়ী, হাম্বালী, মালেকী ও বেশির ভাগ স্কলারদের মত। এ মতামতে বলা হয়েছে কেউ যদি মসজিদে বা ঈদগাহে জামায়তে ঈদের সালাত মিস করে তাহলে সে বাসায় একা একা ঈদের সালাত পড়তে পারবে।
কিন্তু ২য় মত অর্থাৎ হানাফী মত অনুযায়ী কেউ যদি মসজিদে বা ঈদগাহে ঈদের সালাত পড়তে না পাড়ে তাহলে তার আর ঈদের সালাত পড়া লাগবে না। তার মতে ঈদের সালাত একটা সামাজিক ইবাদত। জুমআর সালাতের যে শর্ত ঈদের সালাতের একই শর্ত। অর্থাৎ কেউ জুমআর সালাত পড়তে না পারলে সে ঘরে যোহরের ৪ রাকাত সালাত আদায় করবে তেমনি ঈদের সালাত পড়তে না পারলে ঘরে ২ রাকাত বা ৪ রাকাত চাশতের সালাত আদায় করতে পারবে।
শাফেয়ী, হাম্বালী, মালেকীর মত বড় বড় স্কলাররা একাকী ঈদের সালাত আদায় নিয়ে একটি শক্ত দলিল পেশ করেছেন যা বুখারী শরীফের সহিহ হাদিস। এই হাদিসে প্রসঙ্গ ছিলো আনাস (রাঃ) কে নিয়ে। উনি উনার শেষ জীবনে ইরাকের বসরা নগরীতে থাকতেন। একদিন কোন কারণ বসত উনি এবং উনার পরিবার ঈদের নামাজ জামায়াতে পরতে পারেননি। যার ফলে উনি বাসায় এসে উনার পরবারকে নিয়ে ঈদের সালাত ঘরেই আদায় করে নেন।
এই হাদিস টি সহিহ ভাবে বুখারীতে এসেছে। “ কোন এক সময় যখন আনাস (রাঃ) এর ঈদের সালাত ঈদগাহে জামায়াতের সাথে ফাওত হয় গেলো তখন তিনি বাড়িতে এসে উনার পরিবার ও উনার আজাদকৃত সকল দাস দাসী কে একত্রিত করলেন। তখন উনার আজাদকৃত দাস আবূ উতবাকে বললেন, তুমি আমাদেরকে নিয়ে ঈদের সালাতের ইমামতী কর। তখন আবূ উতবা আনাস (রাঃ) সবাইকে নিয়ে ২ রাকাত ঈদের সালাত ঘরে আদায় করলেন। এবং প্রতি রাকাতেই অতিরিক্ত তাকবীর গুলো তিনি দিয়েছেন। এ হাদিস থেকে বলা যায় কেউ যদি ঈদের সালাত জামায়াতে মিস করে তাহলে সে ঘরে একাকী বা জামায়াতে ঈদের সালাত আদায় করতে পারবে। কেননা এটা মহানবী (সাঃ) এর খুব কাছের সাহাবী হযরত আনাস (রাঃ) এমনটি করেছেন, যাকে বলা হয় খাদেমু রাসুলুল্লাহ। তিনি ১০ বছর রাসুল (সঃ) এর খেদমত করেছেন। তিনি মহানবী (সঃ) এর চিন্তা, চেতনা সম্পর্কে খুব ভালো ধারনা রাখতেন এবং এর প্রেক্ষাপটেই উনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এই দলিলের আলোকে বেশির ভাগ স্কলাররা বলেছেন ঈদের নামাজ কারন বশত ঘরে পড়া যাবে।
যেহেতু আমাদের মসজিদ বন্ধ, আমরা ঈদগাহে যেয়ে নামাজ পড়তে পারছি না সেহেতু আমারা হযরত আনাস (রাঃ) এর সাথে কিয়াস করেই এর সমাধান খুজে নিতে হবে।
যেহেতু আমাদের কাছে মতামত ২ টি। একটি হল হানাফি মতামত, যেখানে বলা হয়েছে ঈদের সালাত সামাজিক ইবাদত সেহেতু এইটা ঘরে পড়া যাবে না।
অন্যদিকে বেশিরভাগ স্কলারের মতামত যে, কেউ মিস করলে সে ঘরে ঈদের সালাত আদায় করতে পারবে।
এই দীর্ঘসময়ের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যেহেতু আরব বিশ্বসহ বেশির ভাগ মুসলিম দেশের ফতুয়া বোর্ডের মতামত অনুযায়ী আপনারা বাহিরে যেয়ে ঈদের সালাত আদায় করতে পারবেন না, সেহেতু আপনারা ঘরে ঈদের সালাত আদায় করুন। যেহেতু আনাস (রাঃ) এমনটি করেছেন সেহেতু আমরা চাইলে ঘরে একা একা বা সকলকে নিয়ে জামায়াতে ঈদের সালাত আদায় করতে পারবো।
হানাফি মাজহাব মতে ঘরে ঈদের সালাত আদায় করা যাবে না, কিন্তু এইটাও বলা হয় নি যে পরলে গুনাহ হবে। তাই আমরা ঘরে ঈদের সালাত আদায় করবো কেননা হানাফি মতে যদি এটা ঈদের সালাত নাও হয় তাহলে এই সালাত নফল সালাত হিসেবে গন্য হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
মোট আক্রান্ত

৬০,৩৯১

সুস্থ

১২,৮০৪

মৃত্যু

৮১১

  • জেলা সমূহের তথ্য
  • ঢাকা ১৯,৩০৫
  • চট্টগ্রাম ২,৬৬২
  • নারায়ণগঞ্জ ২,৩৩৩
  • গাজীপুর ১,১১৫
  • কুমিল্লা ১,০৩৮
  • কক্সবাজার ৮৮৭
  • মুন্সিগঞ্জ ৮১৮
  • নোয়াখালী ৭২৬
  • ময়মনসিংহ ৪৯১
  • রংপুর ৪৬৯
  • সিলেট ৪৬৫
  • ফেনী ২৪২
  • ফরিদপুর ২৪০
  • গোপালগঞ্জ ২৩৯
  • কিশোরগঞ্জ ২৩৩
  • নেত্রকোণা ২২৫
  • জামালপুর ২০৯
  • নওগাঁ ১৯৪
  • নরসিংদী ১৮৪
  • দিনাজপুর ১৭৯
  • চাঁদপুর ১৭৮
  • মাদারীপুর ১৭৫
  • হবিগঞ্জ ১৭০
  • মানিকগঞ্জ ১৬৫
  • জয়পুরহাট ১৬৩
  • যশোর ১৫৩
  • লক্ষ্মীপুর ১৪২
  • নীলফামারী ১৩৮
  • বগুড়া ১৩৭
  • সুনামগঞ্জ ১৩০
  • বরিশাল ১২৬
  • শরীয়তপুর ১২৫
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১২১
  • চুয়াডাঙ্গা ১০১
  • মৌলভীবাজার ১০০
  • খুলনা ১০০
  • রাজবাড়ী ৯০
  • শেরপুর ৮৭
  • পটুয়াখালী ৮৭
  • কুষ্টিয়া ৮৫
  • রাজশাহী ৮০
  • বরগুনা ৭১
  • কুড়িগ্রাম ৭১
  • রাঙ্গামাটি ৬৬
  • ঠাকুরগাঁও ৬৫
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬২
  • নাটোর ৫৯
  • ঝিনাইদহ ৫৬
  • ভোলা ৫৫
  • গাইবান্ধা ৫৩
  • টাঙ্গাইল ৫৩
  • পঞ্চগড় ৫২
  • সাতক্ষীরা ৪৭
  • খাগড়াছড়ি ৪৭
  • পাবনা ৪৬
  • বাগেরহাট ৪২
  • সিরাজগঞ্জ ৪০
  • বান্দরবান ৩৯
  • লালমনিরহাট ৩৮
  • পিরোজপুর ৩৪
  • ঝালকাঠি ৩০
  • নড়াইল ৩০
  • মাগুরা ২৯
  • মেহেরপুর
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews