1. aponi955@gmail.com : Apon Islam : Apon Islam
  2. mdarifpress@gmail.com : Nure Alam Siddky Arif : Nure Alam Siddky Arif
  3. hasanchy52@gmail.com : hasanchy :
  4. sandhanitv@gmail.com : Kamrul Hasan : Kamrul Hasan
  5. glorius01716@gmail.com : Md Mizanur Rahman : Md Mizanur Rahman
  6. mrshasanchy@gmail.com : Riha Chy : Riha Chy
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:১৯ অপরাহ্ন

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ

  • প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৯ বার দেখা হয়েছে

দেশের মানুষের জন্য আওয়ামী লীগ কাজ করে উল্লেখ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নেতাদের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের মানুষ কীভাবে একটু ভালো থাকবে- সেটাই আমাদের করতে হবে। তিনি বলেন, সামনে একটা উপনির্বাচন আছে। সেই নির্বাচনে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আমাদের উপর রয়েছে। গতকাল বুধবার ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি সভায় যোগ দেন তিনি। ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন- সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহবুব-উল- আলম হানিফ, দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, মীর্জা আজম, আফজাল হোসেন, অসীম কুমার উকিল, ফরিদুন্নাহার লাইলী, বিপ্লব বড়ুয়া, শাম্মী আহমেদ, ওয়াসিকা আয়েশা খান, আমিনুল ইসলাম, সায়েম খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা আছে। সেখানে কোথায় কী প্রয়োজন। কী করলে দেশের মানুষ একটু ভালো থাকবে। আমাদের মানুষকে নিয়েই চিন্তা, মানুষকে নিয়েই আমাদের কাজ। সেটাই আমাদের করতে হবে। আমি আশা করি সকলেই আন্তরিকতার সঙ্গে সেই কাজ করবে। আমাদের জাতির পিতার আদর্শ নিয়েই চলতে হবে। তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা অমরা পূরণ করতে চাই। তিনি বলেন, আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি, যদিও যে কর্মসূচিগুলো নিয়েছিলাম তা পালন করতে পারছি না করোনাভাইরাসের কারণে। যদিও আমরা লক্ষ্য স্থির করেছি, আমরা গাছ লাগাবো প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায়। আর দেশের মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াবো। যাতে গৃহহারা, ভূমিহীনরা উপকৃত হয়। বিশেষ করে ভূমিহীনদের ভূমি ও গৃহ আমরা নির্মাণ করে দেবো। সেগুলো আমাদের প্রত্যেক অঞ্চলে, এ রকম যদি থাকে সেটা খুঁজে বের করতে হবে, দেখতে হবে। আমরা দলের পক্ষ থেকেও অনেক তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। তাছাড়া যাদের ভিটে আছে কিন্তু বাড়ি করার টাকা নেই তাদেরও সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এটাও যাতে যথাযথভাবে হয় সেই ব্যবস্থাটা করতে হবে। সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, প্রত্যেকে যার যার নিজ নিজ বিষয়ভিত্তিক দায়িত্বটা পালন করা দরকার। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা যে ঘোষণাগুলো দিয়েছি। পাশাপাশি আমাদের যে পলিসিগুলো রয়েছে, সেগুলো হতে শুরু করে সব বিষয়গুলো নিয়ে বসা, অলোচনা করা। জাতির কাছে আমাদের দেয়া কি কি প্রতিশ্রুতি এই পর্যন্ত আমরা রক্ষা করতে পেরেছি বা কোনটা কতটুকু করা হয়েছে বা ভবিষ্যতে কতটুকু করবো সেই বিষয় আলোচনা করা। তিনি বলেন, আর যেহেতু আমরা সরকারে আছি, সেখানে আমরা কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরা প্রথমবার ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। এবার আমরা নিয়েছি ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে আমরা কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সেই পরিকল্পনাগুলো আমাদের দলের প্রতিটি নেতাকে দেয়া উচিত, দেখা উচিত। যার যার বিষয়গুলো দেখে নিয়ে সেটার উপর কাজ করলে আমরা অনেকখানি এগিয়ে যেতে পারবো। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। করোনা ভাইরাস চলাকালীন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান দলীয় সভাপতি। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের ত্রাণ দেয়া, ধানকাটার সময় ধান কেটে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেয়া, বন্যার সময় ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এ ধরনের কাজ আমাদের সবাই করেছে। এই জন্য সবাইকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আর এটিই হচ্ছে আমাদের কাজ, জাতির পিতা সেই শিক্ষাটাই আমাদের দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখনও কাজ করতে হবে। আমাদের সংগঠনটাকে আরো সুসংগঠিত করতে হবে। করোনা ভাইরাসের কারণে সম্মেলন হওয়া সত্ত্বেও আমাদের বিভিন্ন জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি, সেই কমিটিগুলো যাতে তাড়াতাড়ি হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের জনগণ আমাদের বারবার ভোট দিয়েছে, নির্বাচিত হয়ে এসেছি। আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। আজকে আমাদের রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলার। আমরা আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ ভাগ টার্গেট করেছিলাম। এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৭ দশমিক ৮ ভাগ অর্জন করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে সেটা কমে গেছে। তারপরও এখনও আমরা একটা ভালো অর্থনৈতিক অবস্থানের মধ্যে আছি। আমরা বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি সকল ক্ষেত্রে। প্রণোদনা দেয়ার ফলে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলো যথাযথভাবে চলছে। আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি, সেখানে আমরা বিনিয়োগ করতে চাই। সেই জন্য আমরা সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আমরা যে এগোচ্ছি সেটা যাতে যথাযথভাবে কার্যকর হয় সেটা আমাদের দেখতে হবে, নজরদারি বাড়াতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিকে ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আগেও বলেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিটাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই। সম্পূর্ণ আধুনিকভাবে টিএসসি প্রতিষ্ঠা করবো। এটা ছাত্র-শিক্ষকদের একটা মিলন কেন্দ্র, যাতে করে এটাকে আরও সুন্দরভাবে তৈরি করবো সেই নির্দেশ আমি দিয়েছি। সেভাবে নতুন করে ডিজাইন ও প্ল্যান করে করবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র সঙ্গে কথা বলেছিলাম, আমি জানি বিশ্ববিদ্যালয় এটা করতে পারবে না। কাজেই এটার জন্য টাকা-পয়সা যা খরচা লাগে…। আমিতো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, জাতির পিতাও এখানের ছাত্র ছিলেন। কাজেই এটা আমরাই করে দেবো। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঢাকা মেডিকেল কলেজটাকেও আমরা খুব সুন্দরভাবে করতে চাই। কারণ এই একটাই জাতীয় প্রতিষ্ঠান যাতে সারা বাংলাদেশ থেকে মানুষ চিকিৎসার জন্য আসে। কাজেই সেখানে যাতে ৫ হাজার রোগীর চিকিৎসা হতে পারে, সেইভাবে এটাকে আমরা নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই। পুরনো ঐতিহ্য কিছুটা আমরা ধরে রাখতে পারি সামনের ডিজাইন অনুযায়ী। কিন্তু ভিতরে সম্পূর্ণ আধুনিক একটা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ আমরা নির্মাণ করবো। ইতিমধ্যে সেই প্ল্যান তৈরি করা আছে। সেটার কাজ যাতে দ্রুত হয় তার ব্যবস্থা আমরা করতে চাই।  তিনি বলেন, সেখানে আমাদের ঐতিহ্যগুলো রক্ষা করা, মেডিকেল কলেজের সাথে আমাদের শহীদ মিনার। সেই মিনারটাকেও সুন্দরভাবে তৈরি করা। যে ডিজাইনে আছে সেটাকে ঠিক রেখে সুন্দরভাবে নির্মাণ করা। শহীদ মিনারের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো, যেখানে আমতলা। সেই আমতলায় দাঁড়িয়ে কিন্তু আমাদের ভাষা আন্দোলনের যাত্রা শুরু। যেখানে ৪৮ সালের ১৬ই মার্চ জাতির পিতা মিটিং করেছিলেন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার জন্য। কাজেই সেই আমতলাটাকেও রক্ষা করা এবং সবকিছু মিলিয়ে করবো সেই নির্দেশনা দিয়েছি। তাছাড়া ময়মনসিংহ নতুন বিভাগীয় শহর। সেখানে নতুন প্ল্যান কীভাবে হবে সেগুলোর বিষয়ে আমরা বলেছি। আমাদের প্রশাসন ক্যাডারদের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট খুবই পুরনো ও জরাজীর্ণ সেখানে একটা নতুন প্ল্যানও নতুন ডিজাইন আমরা করে দিতে চাচ্ছি। তার প্ল্যানটাও আমি দেখে অনুমোদন দিয়ে দিলাম। সেই সঙ্গে পাবলিক লাইব্রেরিটাকে আরো একটু আধুনিক লাইব্রেরি করতে চাই। কারণ এটা অনেক পুরনো এবং জরাজীর্ণ। বিশেষ করে মিলনায়তনটা খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। যাতে এটা আধুনিক লাইব্রেরি হিসেবে গড়ে তোলা যায়, যেখানে ডিজিটাল লাইব্রেরি হবে। আবার এই লাইব্রেরিও থাকবে। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রয়াত প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলাদেশের একজন অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের যে কোনো দুঃসময়ে তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। আমি এইটুকু অন্তত বলতে পারি পঁচাত্তরের পর আমরা যখন দিল্লিতে ছিলাম তখন তিনি (প্রণব মুখার্জি) ও তার পরিবার আমাদের দেখাশোনা, সব বিষয়ে সহযোগিতা করেছেন। এর পরবর্তীতেও বিভিন্ন দুঃসময়ে সবসময় তিনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে যখন বিশ্বব্যাংক লাগলো, ওয়ান-ইলেভেনে যখন আমি গ্রেপ্তার হলাম। আমার প্রতি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই সময়ও তিনি আন্তর্জাতক অঙ্গনে আমাদের পক্ষে ও আমার মুক্তির জন্য অনেক কাজ করে গেছেন।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
© All rights reserved © Sandhani TV
Theme Design by Hasan Chowdhury