ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা -১৯-আসনের সংসদসদস্যের নির্দেশনায় এইচ বিবি করন রাস্তা সংস্কার কাজ নির্মাণ শুরু করলেন আশুলিয়া থানা যুবলীগের ভবিষ্যৎ কান্ডারী দেওয়ান রাজু আহমেদ সাতক্ষীরা কিন্ডারগার্টেনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত” সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ৬৫ তম ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান হাজী মোঃ মোশাররফ খান একজন পরিশ্রমী জনবান্ধব ইউপি সচিব শরীফুজ্জামান বিপুল ভোটে ঢাকা ১৯ এর সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাভারের আশুলিয়ায় নির্বাচন বন্ধে বিএনপি’র লিফলেট বিতরণ সাভারে নির্বাচনের হালচাল সাভারে ইউসুফ আলী চুন্নুর নেতৃত্বে ঈগল মার্কার পক্ষে নির্বাচনী গনসংযোগ জনসমুদ্রে পরিনত

সাভারে স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও ভালোবাসার ঠিকানা” ডাঃ সায়েমুল হুদা”

মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ-
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩ ১৭২১ বার পড়া হয়েছে
sandhanitv অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

সাভার বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি রাজধানী শহর ঢাকা হতে প্রায় ২৪ কিলোমিটার উত্তরে (গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে সড়ক পথের দূরত্ব) অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম বড় শহর এবং ঢাকা মেগাসিটির অন্তর্ভুক্ত এলাকা।সাভার বাংলাদেশের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ন উপজেলাগুলোর মধ্যে একটি।সাভারে স্হায়ী জনসংখ্যা ১৫ লক্ষাধিক। স্থায়ী এবং অস্থায়ী মিলে এই উপজেলায় জনসংখ্যা রয়েছে ৭০ লক্ষ্যের অধিক। রাজধানী ঢাকা শহরের পরেই জনসংখ্যায় সাভার উপজেলার অবস্থান। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই ৭০ লক্ষাধিক মানুষের জন্য যে সরকারি হাসপাতালটি রয়েছে সেটি মাত্র ৫০ শয্যার। যেটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাভার, নামেই পরিচিত। সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন প্রায় ১৪ থেকে ১৫০০ মানুষ এখানে সেবা নিতে আসে। জরুরী বিভাগে রোগীর সংখ্যাও প্রায় কাছাকাছি। এই মাত্রাতিরিক্ত রোগী এবং নানাবিধ প্রতিকূলতা নিয়ে অত্যন্ত সাহস এবং দক্ষতার সাথে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে যিনি এগিয়ে নিয়ে চলেছেন, তিনি হলেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সায়েমুল হুদা। তিনি যখন যোগদান করেছিলেন তার পূর্বে দায়িত্বে ছিলেন আরো একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. আমজাদুল হক। সে সময় হাসপাতালটির সার্বিক উন্নয়নে ডা. আমজাদুল হক অতিব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তার সময়েই তিনি অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে গিয়েছিলেন। বাদবাকি কর্মকাণ্ড গুলোকে অত্যন্ত সুন্দর ও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেছেন তারই সুযোগ্য উত্তরসূরী সায়েমুল হুদা। তাই তিনি যেন, সাভারের স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও ভালোবাসার ঠিকানা” । হাসপাতালের ভিতরে ঢুকলেই দেখা যায় একটি মনোমুগ্ধকর বাগান। ডা. আমজাদুল হকের প্রতিষ্ঠিত এই বাগানটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধশালী করেছেন সায়েমুল হুদা।যেটি হাসপাতালের পরিবেশটাকে সবুজ সমারোহে পরিণত করেছে। প্রতিদিন প্রচুর রোগীর  চাপ সামলাতে হয় হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার এবং নার্সদের। সকাল থেকেই গভীর রাত পর্যন্ত সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করে চলেছেন সায়েমুল হুদা। তবু তার চোখে মুখে নেই কোন ক্লান্তি। কিন্তু তার আক্ষেপ, এত জলবহুল একটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি মাত্র ৫০ শয্যার। যা মেনে নেয়া যায়না। ২০১৯ সালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়টিতে ১০০ শয্যার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। এই আসনের এমপি এবং মাননীয় ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ এনামুর রহমান। হাসপাতালের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তিনিও বলেন, আমিও চেষ্টা করছি হাসপাতালটির যথাযথ উন্নয়নের। কিন্তু সাভারের জনগণ সেই চেষ্টার ফলাফল খুব একটা দেখছে না। আশুলিয়া থেকে এসেছেন আব্দুল কাদের নামের বয়ো:বৃদ্ধ একজন রোগী। তার দাঁতের যন্ত্রণা দীর্ঘদিনের তাই তিনি এখানে দেখাতে এসেছেন। কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন।কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে তার কষ্ট হচ্ছে বলে জানালেন। সাভারের আনন্দপুর থেকে এসেছেন রোজি নামের একজন ভদ্রমহিলা। মেয়েলি কোন সমস্যার কারণে তিনি এসেছেন এখানকার চিকিৎসা নিতে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে তারও কষ্ট হচ্ছে বলে জানা গেল। এভাবে শত শত নারী-পুরুষ শিশু বৃদ্ধ সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কাঙ্খিত সেবা পাওয়ার আশায়। প্রতিটি ডাক্তারের চেম্বারে দেখা গেল প্রচন্ড ব্যস্ততা। তারাও একের পর এক রোগী দেখে চলেছেন। কিন্তু কতক্ষণ সম্ভব একজন ডাক্তারের পক্ষে মাত্রাতিরিক্ত রোগীকে চিকিৎসা দেয়া? এতকিছুর পরেও আগত রোগীরা অনেক সন্তুষ্ট এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা যথাযথভাবে পেয়ে। শুধু তাদের একটাই দাবি, আরও চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হোক এই হাসপাতালটির। এই হাসপাতালে ৫০ টি শয্যা থাকলেও ১০০ জনের মতো রোগী ভর্তি থাকে প্রতিদিন। জায়গা না পেয়ে অনেকে হাসপাতালের বারান্দায় কিংবা মেঝেতে অবস্থান করেন। এত বিপুল সংখ্যক রোগীকে নিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালের প্রত্যেকটি কর্মকর্তা কর্মচারী এবং ডাক্তারদেরকে ব্যস্ত থাকতে হয়। এরই মধ্যে ডা. সায়েমুল হুদা অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করে চলেছেন দক্ষতার সাথে। যেমন- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্পিত বিভিন্ন দিবস পালন , অজ্ঞাত রোগীদের সেবা প্রদানে নেতৃত্ব প্রদান, প্রবীনদের যথাযথ সেবা, জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা প্রদান, বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন, স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি করনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, উপজেলার যে সমস্ত হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত ফি এবং ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করছে তাদেরকে জরিমানার আওতায় আনা এবং প্রয়োজনের সিলগালা করা। বিভিন্ন ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত অভিযান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জেলার স্বাস্থ্য বিভাগীয় মাসিক সমন্বয়ে সর্বাত্মক উপস্থিতি, উপজেলার খুদে ডাক্তার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদান, উপজেলা নিয়ন্ত্রণাধীন কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোর তত্ত্বাবধান, পরিবেশ বিষয়ক বিডি ক্লিন সাভার উপজেলার যে কমিটি রয়েছে তাদেরকে সহযোগিতা প্রদান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সাথে সংযোগ স্থাপন করে যথাযথ সহযোগিতা প্রদান। উপজেলা প্রশাসনের মাসিক মিটিংয়ে অংশগ্রহণ, ভর্তিকৃত প্রতিটি রোগীর সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান এবং খোঁজখবর নেয়া। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনি বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি যেখানে বসেন তার ঠিক পাশেই ডানপাশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি করে চেয়ার স্পেশাল ভাবে রাখা হয়েছে। কোন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেখানে গেলে তিনি সেখানে তাদেরকে বসিয়ে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক চিকিৎসা সেবা এবং আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন। উপজেলার সাংবাদিকদের সাথে এবং প্রশাসনিক সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে তিনি যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মানুষের সেবা করার জন্যই এই পেশায় এসেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেবা করে যাব ইনশাল্লাহ। কিন্তু এত জনবহুল উপজেলার হাসপাতালটি মাত্র ৫০ শয্যার, ভাবতেই খারাপ লাগে। কমপক্ষে দ্রুত গতিতে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, এই অধিক সংখ্যক মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা দিতে গেলে ১০০ শয্যার বাস্তবায়ন ছাড়া সম্ভব নয়। একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,১০০ শয্যার উন্নতি করনে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও তিনি জানান। হাসপাতালটিতে বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রীবর্গ, স্বাস্থ্য সচিব থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক, জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পরিদর্শন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে আসলে তিনি তাদেরকে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের জন্য দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাভারে স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও ভালোবাসার ঠিকানা” ডাঃ সায়েমুল হুদা”

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০২৩

 

 

সাভার বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি রাজধানী শহর ঢাকা হতে প্রায় ২৪ কিলোমিটার উত্তরে (গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে সড়ক পথের দূরত্ব) অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম বড় শহর এবং ঢাকা মেগাসিটির অন্তর্ভুক্ত এলাকা।সাভার বাংলাদেশের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ন উপজেলাগুলোর মধ্যে একটি।সাভারে স্হায়ী জনসংখ্যা ১৫ লক্ষাধিক। স্থায়ী এবং অস্থায়ী মিলে এই উপজেলায় জনসংখ্যা রয়েছে ৭০ লক্ষ্যের অধিক। রাজধানী ঢাকা শহরের পরেই জনসংখ্যায় সাভার উপজেলার অবস্থান। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই ৭০ লক্ষাধিক মানুষের জন্য যে সরকারি হাসপাতালটি রয়েছে সেটি মাত্র ৫০ শয্যার। যেটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাভার, নামেই পরিচিত। সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন প্রায় ১৪ থেকে ১৫০০ মানুষ এখানে সেবা নিতে আসে। জরুরী বিভাগে রোগীর সংখ্যাও প্রায় কাছাকাছি। এই মাত্রাতিরিক্ত রোগী এবং নানাবিধ প্রতিকূলতা নিয়ে অত্যন্ত সাহস এবং দক্ষতার সাথে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে যিনি এগিয়ে নিয়ে চলেছেন, তিনি হলেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সায়েমুল হুদা। তিনি যখন যোগদান করেছিলেন তার পূর্বে দায়িত্বে ছিলেন আরো একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. আমজাদুল হক। সে সময় হাসপাতালটির সার্বিক উন্নয়নে ডা. আমজাদুল হক অতিব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তার সময়েই তিনি অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে গিয়েছিলেন। বাদবাকি কর্মকাণ্ড গুলোকে অত্যন্ত সুন্দর ও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেছেন তারই সুযোগ্য উত্তরসূরী সায়েমুল হুদা। তাই তিনি যেন, সাভারের স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও ভালোবাসার ঠিকানা” । হাসপাতালের ভিতরে ঢুকলেই দেখা যায় একটি মনোমুগ্ধকর বাগান। ডা. আমজাদুল হকের প্রতিষ্ঠিত এই বাগানটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধশালী করেছেন সায়েমুল হুদা।যেটি হাসপাতালের পরিবেশটাকে সবুজ সমারোহে পরিণত করেছে। প্রতিদিন প্রচুর রোগীর  চাপ সামলাতে হয় হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার এবং নার্সদের। সকাল থেকেই গভীর রাত পর্যন্ত সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করে চলেছেন সায়েমুল হুদা। তবু তার চোখে মুখে নেই কোন ক্লান্তি। কিন্তু তার আক্ষেপ, এত জলবহুল একটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি মাত্র ৫০ শয্যার। যা মেনে নেয়া যায়না। ২০১৯ সালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়টিতে ১০০ শয্যার জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। এই আসনের এমপি এবং মাননীয় ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ এনামুর রহমান। হাসপাতালের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তিনিও বলেন, আমিও চেষ্টা করছি হাসপাতালটির যথাযথ উন্নয়নের। কিন্তু সাভারের জনগণ সেই চেষ্টার ফলাফল খুব একটা দেখছে না। আশুলিয়া থেকে এসেছেন আব্দুল কাদের নামের বয়ো:বৃদ্ধ একজন রোগী। তার দাঁতের যন্ত্রণা দীর্ঘদিনের তাই তিনি এখানে দেখাতে এসেছেন। কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন।কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে তার কষ্ট হচ্ছে বলে জানালেন। সাভারের আনন্দপুর থেকে এসেছেন রোজি নামের একজন ভদ্রমহিলা। মেয়েলি কোন সমস্যার কারণে তিনি এসেছেন এখানকার চিকিৎসা নিতে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে তারও কষ্ট হচ্ছে বলে জানা গেল। এভাবে শত শত নারী-পুরুষ শিশু বৃদ্ধ সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কাঙ্খিত সেবা পাওয়ার আশায়। প্রতিটি ডাক্তারের চেম্বারে দেখা গেল প্রচন্ড ব্যস্ততা। তারাও একের পর এক রোগী দেখে চলেছেন। কিন্তু কতক্ষণ সম্ভব একজন ডাক্তারের পক্ষে মাত্রাতিরিক্ত রোগীকে চিকিৎসা দেয়া? এতকিছুর পরেও আগত রোগীরা অনেক সন্তুষ্ট এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা যথাযথভাবে পেয়ে। শুধু তাদের একটাই দাবি, আরও চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হোক এই হাসপাতালটির। এই হাসপাতালে ৫০ টি শয্যা থাকলেও ১০০ জনের মতো রোগী ভর্তি থাকে প্রতিদিন। জায়গা না পেয়ে অনেকে হাসপাতালের বারান্দায় কিংবা মেঝেতে অবস্থান করেন। এত বিপুল সংখ্যক রোগীকে নিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালের প্রত্যেকটি কর্মকর্তা কর্মচারী এবং ডাক্তারদেরকে ব্যস্ত থাকতে হয়। এরই মধ্যে ডা. সায়েমুল হুদা অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করে চলেছেন দক্ষতার সাথে। যেমন- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্পিত বিভিন্ন দিবস পালন , অজ্ঞাত রোগীদের সেবা প্রদানে নেতৃত্ব প্রদান, প্রবীনদের যথাযথ সেবা, জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা প্রদান, বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন, স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি করনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, উপজেলার যে সমস্ত হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত ফি এবং ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করছে তাদেরকে জরিমানার আওতায় আনা এবং প্রয়োজনের সিলগালা করা। বিভিন্ন ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত অভিযান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জেলার স্বাস্থ্য বিভাগীয় মাসিক সমন্বয়ে সর্বাত্মক উপস্থিতি, উপজেলার খুদে ডাক্তার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদান, উপজেলা নিয়ন্ত্রণাধীন কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোর তত্ত্বাবধান, পরিবেশ বিষয়ক বিডি ক্লিন সাভার উপজেলার যে কমিটি রয়েছে তাদেরকে সহযোগিতা প্রদান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সাথে সংযোগ স্থাপন করে যথাযথ সহযোগিতা প্রদান। উপজেলা প্রশাসনের মাসিক মিটিংয়ে অংশগ্রহণ, ভর্তিকৃত প্রতিটি রোগীর সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান এবং খোঁজখবর নেয়া। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনি বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি যেখানে বসেন তার ঠিক পাশেই ডানপাশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি করে চেয়ার স্পেশাল ভাবে রাখা হয়েছে। কোন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেখানে গেলে তিনি সেখানে তাদেরকে বসিয়ে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক চিকিৎসা সেবা এবং আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন। উপজেলার সাংবাদিকদের সাথে এবং প্রশাসনিক সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে তিনি যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মানুষের সেবা করার জন্যই এই পেশায় এসেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেবা করে যাব ইনশাল্লাহ। কিন্তু এত জনবহুল উপজেলার হাসপাতালটি মাত্র ৫০ শয্যার, ভাবতেই খারাপ লাগে। কমপক্ষে দ্রুত গতিতে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, এই অধিক সংখ্যক মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা দিতে গেলে ১০০ শয্যার বাস্তবায়ন ছাড়া সম্ভব নয়। একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,১০০ শয্যার উন্নতি করনে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও তিনি জানান। হাসপাতালটিতে বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রীবর্গ, স্বাস্থ্য সচিব থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক, জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পরিদর্শন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে আসলে তিনি তাদেরকে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের জন্য দাবি জানান।