ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা -১৯-আসনের সংসদসদস্যের নির্দেশনায় এইচ বিবি করন রাস্তা সংস্কার কাজ নির্মাণ শুরু করলেন আশুলিয়া থানা যুবলীগের ভবিষ্যৎ কান্ডারী দেওয়ান রাজু আহমেদ সাতক্ষীরা কিন্ডারগার্টেনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত” সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ৬৫ তম ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান হাজী মোঃ মোশাররফ খান একজন পরিশ্রমী জনবান্ধব ইউপি সচিব শরীফুজ্জামান বিপুল ভোটে ঢাকা ১৯ এর সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাভারের আশুলিয়ায় নির্বাচন বন্ধে বিএনপি’র লিফলেট বিতরণ সাভারে নির্বাচনের হালচাল সাভারে ইউসুফ আলী চুন্নুর নেতৃত্বে ঈগল মার্কার পক্ষে নির্বাচনী গনসংযোগ জনসমুদ্রে পরিনত

নৌকার মাঝিদের চিন্তায় ফেলছে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঝড়ে ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১৯ বার পড়া হয়েছে
sandhanitv অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী ৭ই জানুয়ারি ২০২৪ শে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকার মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা।

নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠে রেখে আওয়ামী লীগ কৌশল নিয়েছে, তাতে অনেক আসনে নৌকার প্রার্থীরা এখন ঝুঁকিতে রয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৬৩ আসনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করলেও প্রতিটি আসনেই লড়তে হবে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে। দল থেকেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীদেরও এখন চিন্তা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবার আমাদের দলের অসংখ্য প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। নির্বাচন যাতে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হয় এটাই আমরা চাই। আওয়ামী লীগ থেকে থেকে এবারই প্রথম তাদের কোনো বাধা নিষেধ করা হয়নি। আমরা চাই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন।

তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন এবং বৈধতা পেয়েছেন তারা সবাই অংশগ্রহণ করুক আমরা চাই। এ ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। কাউকে বাধা দেওয়ার মতো কোনো চিন্তা আমাদের দলের মধ্যে কাজ করে না।
দলীয় সূত্র বলছে, অনেকগুলো আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এতটাই জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী যে, নৌকার প্রার্থীরা কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে সেটিই ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে অনেক এলাকা থেকে নৌকার প্রার্থীরা তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ জমা দিচ্ছেন কেন্দ্রে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারে ব্যর্থ হয়ে এখন অনেকেই নিজেদের আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিষ্ক্রিয় রাখতে কেন্দ্রে অনুরোধ জানাচ্ছে। অনেক জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং তাদের দল থেকে বহিস্কারের ঘটনাও ঘটছে।
যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে দলের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের বহিস্কার গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চাপে রাখতে কোনো কমিটি বিলুপ্ত করা হলে বা কাউকে বহিষ্কার করা হয় তা কার্যকর হবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে থাকবেন এবং তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতে আসতে হবে।
বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্তত ১৫ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই করে বিজয়ী হতে হবে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৩ মন্ত্রী, ১৮ প্রতিমন্ত্রী ও তিন উপমন্ত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন বাদে সবাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। যে তিনজন মনোনয়ন পাননি তারা হলেন-সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।  অন্য মন্ত্রীদের আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও সেগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম হবে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বিপরীতে যারা স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন, তাদের কেউ সাবেক সংসদ সদস্য, কেউ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছেন। আবার অনেকেই দলের স্থানীয় পর্যায়ে পদধারী নেতা। এসব আসনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিজ দলের পদধারী শক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।
ঢাকা-১৯ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং (মুরাদ)। গাজীপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। গাজীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসানের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আলিম উদ্দিন ও যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম।

শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসনের (সদর ও হাইমচর) বর্তমান সংসদ সদস্য। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শামছুল হক ভুইয়া। তার পক্ষে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের একাংশ। আরেকাংশ দীপু মনির পক্ষে। জামালপুর-২ আসনে (ইসলামপুর উপজেলা) আওয়ামী লীগের প্রার্থী ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা জিয়াউল হক ও সাজাহান আলী মণ্ডল।
পিরোজপুর-১ আসনে (সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরখানি) আওয়ামী লীগের প্রার্থী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আবদুল আউয়াল। এ দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতে ইতোমধ্যে একজন মারা গেছেন। নরসিংদী-৪ আসনে (বেলাব-মনোহরদী) আওয়ামী লীগের প্রার্থী শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোহরদী উপজেলা পরিষদের পাঁচবারের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান। প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি সম্প্রতি চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন। লালমনিরহাট-২ আসনে (আদিতমারী ও কালিগঞ্জ) সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল হক। মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছোট ভাই কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে এলাকায় আলোচনা আছে। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীও আছেন।
নওগাঁ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন নিয়ামতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান। নেত্রকোনা-২ আসনে (নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলা) আওয়ামী লীগের প্রার্থী সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার সঙ্গে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী ফুটবলার আরিফ খান জয়। আরিফ খান ও তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন।
রাজশাহী-৬ আসনে (চারঘাট ও বাঘা উপজেলা) আওয়ামী লীগের প্রার্থী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য রাহেনুল হক। নাটোর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিংড়া উপজেলা পরিষদের সম্প্রতি পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম।
হবিগঞ্জ-৪ আসনে (চুনারুঘাট ও মাধবপুর) আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক যুবলীগ নেতা ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক। মেহেরপুর-১ আসনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন। শরীয়তপুর-২ আসনে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের প্রতিদ্বন্দ্বী দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খালেদ শওকত আলী। তিনি সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর ছেলে।
দলের বেশিরভাগ আসনেই নৌকার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এমন আসনে আছে যেখানে তরুণ, জনপ্রিয় এবং সাবেক ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ভোটের মাঠে হারিয়ে যেতে পারে এসব প্রার্থী। এসব প্রার্থীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বড় একটি অংশ নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। এ নিয়ে ঘুম হারাম ওসব আসনের নৌকার প্রার্থীদের। নেতাকর্মীরা বলছেন, স্বতন্ত্র ঝড়ে চিন্তায় নৌকার মাঝিরা।
ফরিদপুর-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান কাজী জাফর উল্লাহ। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রতীকের প্রার্থী হলেন বর্তমান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, বর্তমান নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।
ঢাকা-৫ আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনুর রশিদ মুন্না। এই আসনে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মো. কামরুল হাসান। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এই আসনে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের নেতাকর্মীদের কাছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বড় একটি অংশ তার পক্ষে কাজ করছেন।
জয়পুরহাট-১ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি ও জয়পুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল আজিজ মোল্লা। জয়পুরহাট-২ আসনে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী।
ফ‌রিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, মধুখালী ও বোয়ালখালী) আসন থেকে কৃষক লী‌গের সা‌বেক কেন্দ্রীয় সহ সভাপ‌তি আরিফুর রহমান দোলন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই আসনে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে ‘ঈগল’ প্রতীক পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও হামীম গ্রুপের কর্ণধার এ কে আজাদ। এই আসনে নৌকার প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। মাদারীপুর-৩ আসনে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য তাহমিনা বেগম। প্রায় প্রতিটি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হবে নৌকার প্রার্থীদের।
স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী যদি হেভিওয়েট কারও সীমানা পেরিয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে যায় (জয়ী হয়), এটাতে আমরা বাধা দিতে পারি না। গণতন্ত্র হলো প্রতিযোগিতা। সুষ্ঠু নির্বাচন, সুস্থ প্রতিযোগিতা। এখানে প্রার্থীকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করি আমরা।’
দশম সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও বিএনপি ভোট বর্জন করায় আওয়ামী লীগ নতুন কৌশল নিয়েছে। ২০১৪ সালের মতো অধিকাংশ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া এড়াতে এবার মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান কাজী জাফর উল্লাহ রাইজিংবিডিকে বলেন, আমাদের অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এবার দেখা গেছে। এরা থাকায় একটি সুবিধা আছে। এতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি হবে। সব মিলিয়ে দৃষ্টি থাকবে যাতে নির্বাচন কমিশন যাতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নৌকার মাঝিদের চিন্তায় ফেলছে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঝড়ে ’

আপডেট সময় : ১২:১৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩

আগামী ৭ই জানুয়ারি ২০২৪ শে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকার মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা।

নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠে রেখে আওয়ামী লীগ কৌশল নিয়েছে, তাতে অনেক আসনে নৌকার প্রার্থীরা এখন ঝুঁকিতে রয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৬৩ আসনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করলেও প্রতিটি আসনেই লড়তে হবে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে। দল থেকেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীদেরও এখন চিন্তা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবার আমাদের দলের অসংখ্য প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। নির্বাচন যাতে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হয় এটাই আমরা চাই। আওয়ামী লীগ থেকে থেকে এবারই প্রথম তাদের কোনো বাধা নিষেধ করা হয়নি। আমরা চাই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন।

তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন এবং বৈধতা পেয়েছেন তারা সবাই অংশগ্রহণ করুক আমরা চাই। এ ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। কাউকে বাধা দেওয়ার মতো কোনো চিন্তা আমাদের দলের মধ্যে কাজ করে না।
দলীয় সূত্র বলছে, অনেকগুলো আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এতটাই জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী যে, নৌকার প্রার্থীরা কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে সেটিই ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে অনেক এলাকা থেকে নৌকার প্রার্থীরা তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ জমা দিচ্ছেন কেন্দ্রে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারে ব্যর্থ হয়ে এখন অনেকেই নিজেদের আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিষ্ক্রিয় রাখতে কেন্দ্রে অনুরোধ জানাচ্ছে। অনেক জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং তাদের দল থেকে বহিস্কারের ঘটনাও ঘটছে।
যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে দলের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের বহিস্কার গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চাপে রাখতে কোনো কমিটি বিলুপ্ত করা হলে বা কাউকে বহিষ্কার করা হয় তা কার্যকর হবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে থাকবেন এবং তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতে আসতে হবে।
বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্তত ১৫ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই করে বিজয়ী হতে হবে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৩ মন্ত্রী, ১৮ প্রতিমন্ত্রী ও তিন উপমন্ত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন বাদে সবাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। যে তিনজন মনোনয়ন পাননি তারা হলেন-সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।  অন্য মন্ত্রীদের আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও সেগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম হবে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বিপরীতে যারা স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন, তাদের কেউ সাবেক সংসদ সদস্য, কেউ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছেন। আবার অনেকেই দলের স্থানীয় পর্যায়ে পদধারী নেতা। এসব আসনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিজ দলের পদধারী শক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।
ঢাকা-১৯ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং (মুরাদ)। গাজীপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। গাজীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসানের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আলিম উদ্দিন ও যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম।

শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসনের (সদর ও হাইমচর) বর্তমান সংসদ সদস্য। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শামছুল হক ভুইয়া। তার পক্ষে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের একাংশ। আরেকাংশ দীপু মনির পক্ষে। জামালপুর-২ আসনে (ইসলামপুর উপজেলা) আওয়ামী লীগের প্রার্থী ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা জিয়াউল হক ও সাজাহান আলী মণ্ডল।
পিরোজপুর-১ আসনে (সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরখানি) আওয়ামী লীগের প্রার্থী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আবদুল আউয়াল। এ দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতে ইতোমধ্যে একজন মারা গেছেন। নরসিংদী-৪ আসনে (বেলাব-মনোহরদী) আওয়ামী লীগের প্রার্থী শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোহরদী উপজেলা পরিষদের পাঁচবারের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান। প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি সম্প্রতি চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন। লালমনিরহাট-২ আসনে (আদিতমারী ও কালিগঞ্জ) সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল হক। মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছোট ভাই কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে এলাকায় আলোচনা আছে। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীও আছেন।
নওগাঁ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন নিয়ামতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান। নেত্রকোনা-২ আসনে (নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলা) আওয়ামী লীগের প্রার্থী সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার সঙ্গে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী ফুটবলার আরিফ খান জয়। আরিফ খান ও তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন।
রাজশাহী-৬ আসনে (চারঘাট ও বাঘা উপজেলা) আওয়ামী লীগের প্রার্থী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য রাহেনুল হক। নাটোর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিংড়া উপজেলা পরিষদের সম্প্রতি পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম।
হবিগঞ্জ-৪ আসনে (চুনারুঘাট ও মাধবপুর) আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক যুবলীগ নেতা ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক। মেহেরপুর-১ আসনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন। শরীয়তপুর-২ আসনে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের প্রতিদ্বন্দ্বী দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খালেদ শওকত আলী। তিনি সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর ছেলে।
দলের বেশিরভাগ আসনেই নৌকার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এমন আসনে আছে যেখানে তরুণ, জনপ্রিয় এবং সাবেক ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ভোটের মাঠে হারিয়ে যেতে পারে এসব প্রার্থী। এসব প্রার্থীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বড় একটি অংশ নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। এ নিয়ে ঘুম হারাম ওসব আসনের নৌকার প্রার্থীদের। নেতাকর্মীরা বলছেন, স্বতন্ত্র ঝড়ে চিন্তায় নৌকার মাঝিরা।
ফরিদপুর-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান কাজী জাফর উল্লাহ। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রতীকের প্রার্থী হলেন বর্তমান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, বর্তমান নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।
ঢাকা-৫ আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনুর রশিদ মুন্না। এই আসনে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মো. কামরুল হাসান। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এই আসনে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের নেতাকর্মীদের কাছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বড় একটি অংশ তার পক্ষে কাজ করছেন।
জয়পুরহাট-১ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি ও জয়পুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল আজিজ মোল্লা। জয়পুরহাট-২ আসনে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী।
ফ‌রিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, মধুখালী ও বোয়ালখালী) আসন থেকে কৃষক লী‌গের সা‌বেক কেন্দ্রীয় সহ সভাপ‌তি আরিফুর রহমান দোলন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই আসনে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে ‘ঈগল’ প্রতীক পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও হামীম গ্রুপের কর্ণধার এ কে আজাদ। এই আসনে নৌকার প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। মাদারীপুর-৩ আসনে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য তাহমিনা বেগম। প্রায় প্রতিটি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হবে নৌকার প্রার্থীদের।
স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী যদি হেভিওয়েট কারও সীমানা পেরিয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে যায় (জয়ী হয়), এটাতে আমরা বাধা দিতে পারি না। গণতন্ত্র হলো প্রতিযোগিতা। সুষ্ঠু নির্বাচন, সুস্থ প্রতিযোগিতা। এখানে প্রার্থীকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করি আমরা।’
দশম সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও বিএনপি ভোট বর্জন করায় আওয়ামী লীগ নতুন কৌশল নিয়েছে। ২০১৪ সালের মতো অধিকাংশ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া এড়াতে এবার মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান কাজী জাফর উল্লাহ রাইজিংবিডিকে বলেন, আমাদের অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এবার দেখা গেছে। এরা থাকায় একটি সুবিধা আছে। এতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি হবে। সব মিলিয়ে দৃষ্টি থাকবে যাতে নির্বাচন কমিশন যাতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারে।